লাগাতার প্রবল বৃষ্টি এবং ভূমিধসের জেরে বিপর্যস্ত কেরলের ওয়েনাড়। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৫৮ জনের। আহতের সংখ্যা প্রচুর। ঘরছাড়া হয়েছেন শতাধিক গ্রামবাসী। কিন্তু কেন ওয়েনাড়ে এইরকম ভয়ঙ্কর ভূমিধস হল? ইতিমধ্যেই তার কারণ ব্যাখ্যা করেছে রিসোর্সেস অ্যানালিসিস ডিভিশন অফ দ্য ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্থ সায়েন্সেস (এনসিইএসএস)। কিন্তু বিজ্ঞানীদের সেই ব্যাখ্যা কি মেনে নিতে পারলেন বিজেপি নেতা জ্ঞানদেব আহুজা? তাঁর মতে কিন্তু এই ভূমিধসের কারণ একেবারে আলাদা! কী সেই কারণ?
জ্ঞানদেব আহুজার মতে, গোহত্যার কারণেই ওয়েনাড়ে এই ব্যাপক ভূমিধস হয়েছে! তিনি বলেছেন, “২০১৮ সাল থেকে কেরলে এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। ভারতের যেসব জায়গায় গোমাতাকে হত্যা করা হবে সেখানে এরকমই পরিস্থিতিই তৈরি হবে।” বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিরোধীরা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, ওয়েনাড়ের পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডেও ব্যাপক ধস নেমেছে, এই দুই রাজ্যের অনেক জায়গায় তো গোহত্যা কার্যত নিষিদ্ধ, তাহলে সেখানে ধস হল কি করে? এই প্রশ্নের উত্তরে আহুজার সাফ কথা, “হিমাচল বা উত্তরাখণ্ডের ধস ওয়েনাড়ের মতো এত মারাত্মক নয়!”


চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ধস নেমেছিল ওয়েনাড়ে। আজ শনিবার। পেরিয়ে গিয়েছে চার দিন। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। সন্দেহ, কাদা-মাটির স্তূপের মধ্যে এখনও হয়তো চাপা পড়ে রয়েছেন অনেক মানুষ। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে নেমেছে সেনাবাহিনীও। শনিবার সকালে আকাশপথে ওয়েনাড়ের ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে বায়ুসেনা। হাত লাগিয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও। এই উদ্ধারকাজে সব মিলিয়ে ১৩০০ জনেরও বেশি নিযুক্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে, বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভূতাত্ত্বিক কারণ এবং পাহাড়ি জমি ব্যবহারের ভুল ধরনেই ধস নেমেছে। সঙ্গে তাঁরা এও বলেছেন, পাহাড়ের ঢাল, মাটির ঘনত্ব, মাটি এবং পাথরের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই ধস নামে। তার সঙ্গে অবশ্যই দায়ী থাকে ভারী বৃষ্টি। ধসপ্রবণ এলাকার তালিকায় ১৩ নম্বরে রয়েছে ওয়েনাড়। কেরলে ৫৯ শতাংশ ধস নেমেছে কৃষিক্ষেত্র এলাকায়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, চুনাপাথরের ফাটলের কারণেই এবার এই ভূমিধস হয়েছে। পাশাপাশি জলপ্রপাতের সঙ্গে বড় বড় পাথর ধসের সঙ্গে নীচে নেমে এসে আরও ক্ষতির পরিমাণকে বাড়িয়ে দিয়েছে। দেদার বনভূমি কেটে চাষ করায় মাটি ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে।








