দিল্লির ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির (AAP) পরাজয় বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ অরবিন্দ কেজরিওয়ালও নয়া দিল্লি আসনে বিজেপির পরবেশ সাহিব সিং ভর্মার কাছে হারেন। ২৭ বছর পর দিল্লির রাজধানীতে বিজেপির জয় নিশ্চিত করেছে এবং এ বার, নরেন্দ্র মোদির ‘গেরুয়া নিশান’ ঢেউয়ের পাশাপাশি, আম আদমির পরাজয় তুমুল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আসুন, আমরা দেখে নিই কেজরিওয়ালের পরাজয়ের কারণ কী ছিল।
১. আবগারি দুর্নীতি: কেজরির দুর্নীতির দাগ
আবগারি দুর্নীতির অভিযোগ কেজরিওয়ালের জন্য বড় একটি ফ্যাক্টর ছিল। যদিও এই অভিযোগে এখনও কোন দুর্নীতি প্রমাণিত হয়নি, কিন্তু তার প্রভাব থেকে কেজরি রক্ষা পায়নি। প্রমাণ না থাকলেও, প্রায় এক বছর ধরে মণীশ সিসোদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈন, এবং অন্যান্য হেভিওয়েট নেতারা দুর্নীতির অভিযোগে জেলে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ের জন্য দিল্লির প্রশাসনে অরাজকতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তার পর, কেজরিওয়ালের “স্বচ্ছ্ব” ভাবমূর্তি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
২. শিশু মহল বিতর্ক: কেজরিওয়ালের ‘পূর্বের ভাবমূর্তি ভেঙে চুরমার’
২০১৩ সালে কেজরিওয়াল দুর্নীতি বিরোধী এক স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে দিল্লিতে ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু ২০২২ সালে, কেজরিওয়াল যখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বিলাসবহুল বাসভবনে উঠলেন, তখনই তাঁর ভাবমূর্তি ভেঙে যায়। বিজেপি, কংগ্রেস, এবং জনতা দলের সমালোচনা শোনা যায় এবং কেজরির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ‘শিশমহল’ নামে পরিচিত মুখ্যমন্ত্রী বাসভবন নিয়ে। এই বিতর্কের ফলে কেজরিওয়ালের আম আদমি ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩. প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা: অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতির বোঝা
এক দশক ক্ষমতায় থেকে কেজরিওয়াল কিছু প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলেও বেশ কিছু কাজ বাকি ছিল। দিল্লির রাস্তাঘাটের অবস্থা, নর্দমায় জল জমা, এবং অপরিচ্ছন্ন আবর্জনার স্তূপের মতো সমস্যা থেকে কেজরিওয়াল উপেক্ষা করেন। তার গর্বিত স্কুল এবং ক্লিনিকগুলিও বেহাল অবস্থায় ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হওয়া স্থানীয় বিধায়কদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ ছিল।
৪. ভোট কাটাকাটি: কংগ্রেসের ভূমিকা
এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস প্রায় ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দিল্লিতে ভোট কাটাকাটি করেছিল। আপ এবং কংগ্রেসের মধ্যে ভোটের পার্থক্য কম ছিল, আর কংগ্রেসের ভোটেই অনেক আসনে আপ এবং বিজেপির মধ্যে পার্থক্য মিলেছে।
৫. যমুনা এবং দূষণ: নির্বাচনের আগে বড় ইস্যু
যমুনার দূষণও কেজরির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দিল্লিবাসীকে স্বচ্ছ পানীয় জল দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও ছিল কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে। এছাড়া, শীতকালে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে, এবং ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেও এ সমস্যার কোনো সমাধান দিতে পারেননি কেজরি।



