‘অভয়ার মা’কে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপিতে বিভাজন! শমীক বনাম শুভেন্দু শিবিরে টানাপোড়েন

আর জি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা’কে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপিতে মতবিভেদ—একাংশের আপত্তি, শুভেন্দু শিবিরের সমর্থনে জোরালো বিতর্ক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আর জি কর কাণ্ড ঘিরে রাজনীতির তাপ আরও বাড়ল। নির্যাতিতার মা—‘অভয়ার মা’কে প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ আপত্তি তুলছে, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা এই প্রস্তাবের পক্ষে—ফলে গেরুয়া শিবিরে তৈরি হয়েছে মতপার্থক্যের নতুন অক্ষ।

দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্য সভাপতি Samik Bhattacharya এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Sukanta Majumdar-সহ একাংশের মত, ‘অভয়ার মা’কে পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী করা ঠিক হবে না। তাঁদের যুক্তি, এই ইস্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক মঞ্চে আনার সিদ্ধান্ত উল্টে দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari-র শিবির এই প্রস্তাবের পক্ষে। তাঁদের মতে, আর জি কর কাণ্ড রাজ্যজুড়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। সেই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করা হলে তা জনমানসে প্রভাব ফেলতে পারে এবং রাজনৈতিক বার্তাও জোরালো হবে।

প্রসঙ্গত, দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের আদলে আর জি করের নির্যাতিতার নাম ‘অভয়া’ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর মা-বাবা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সপ্তাহে পানিহাটিতে প্রকাশ্যেই ‘অভয়ার মা’ ঘোষণা করেন, সুবিচারের দাবিতে তিনি বিজেপির হয়ে ভোটে লড়তে চান।

তবে এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের মত, ব্যক্তিগত শোককে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা উচিত নয়। বিজেপির অন্দরেও একই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, ‘অভয়ার মা’কে প্রার্থী করলেই যে ব্যাপক জনসমর্থন মিলবে, এমনটা নিশ্চিত নয়।

দলীয় কর্মীদের একাংশের মতও নেতৃত্বের এই দ্বিধাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, আর জি কর কাণ্ড শুধুমাত্র একটি এলাকার ইস্যু নয়, কিন্তু সেই ঘটনার আবেগকে সরাসরি ভোটে রূপান্তর করা সহজ হবে না।

সব মিলিয়ে, ‘অভয়ার মা’কে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপির অন্দরে মতভেদ এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়—যা আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত