বিহারের রাজনীতিতে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। শুক্রবারের NDA-র ঝড়ো প্রত্যাবর্তন রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। রবিবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড়। নির্বাচন কমিশন আজ রাজ্যপালের কাছে Bihar Assembly Election 2025-এর ফল জমা দেবে। এরপরই শেষ হবে আদর্শ আচরণবিধি এবং খুলে যাবে নতুন বিধানসভার পথ।
আগামী সোমবার, ১৭ নভেম্বর, মেয়াদ শেষ হচ্ছে পুরনো মন্ত্রিসভার। সেইদিনই ক্যাবিনেট বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যপালের হাতে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন—এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। এরপর NDA-র সব শরিক দল আইনসভা দলের বৈঠক ডাকবে এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ স্থির করবে।


কিন্তু প্রশ্নটা এখন আরও বড়—
কে হবেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী? নীতীশ, চিরাগ, নাকি অন্য কেউ?
১২৫ বিধায়কের সমর্থন? BJP মুখ্যমন্ত্রীত্ব না দিলেও বিহারের কুর্সিতে ফিরছেন নীতীশ-ই!

NDA এগিয়ে, তবু মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে অনিশ্চয়তা
এই নির্বাচনেই BJP পেয়েছে ৮৯ আসন, আর জেডিইউ পেয়েছে ৮৫। সংখ্যার নিরিখে BJP-ই সবচেয়ে বড় দল। কিন্তু জেডিইউ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে—নীতীশ কুমারই তাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী।
তবুও BJP এখনও মুখ খোলেনি। এর মধ্যেই চিরাগ পাসওয়ান জানিয়েছেন তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন। আবার চিরাগ জেডিইউ-বিরোধী অবস্থান নিলে সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এখানেই আসে সংখ্যার অঙ্ক—যা বিহারের রাজনৈতিক দাবা খেলাকে আরও জটিল করছে।


অঙ্ক ১: নীতীশ + চিরাগ = ১০৪ (সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়)
নীতীশ (৮৫) + চিরাগ (১৯) = ১০৪
কিন্তু ম্যাজিক ফিগার ১২২। অর্থাৎ NDA-র বাইরে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সুযোগ নেই এখানে। তাই ‘চিরাগকে পাশে পেলেই সরকার’—এই ধারণা ভুল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অঙ্ক ২: নীতীশ + তেজস্বী = ১১০ (বেশ কাছাকাছি)
জেডিইউ (৮৫) + আরজেডি (২৫) = ১১০
এখানে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী—এমন একটি সমীকরণ আগেও দেখা গেছে, তাই অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আরও প্রয়োজন ১২টি আসন।

অঙ্ক ৩: বিরোধী শিবিরের সমর্থন = সহজ ১২টি আসন
যারা BJP-র স্বাভাবিক বিরোধী—
কংগ্রেস (৬), বামফ্রন্ট (৩) এবং IIP (১)
নিশ্চিত সমর্থনে পৌঁছচ্ছে মোট ১২০।
এখানে বড় মোড়—
AIMIM-এর ৫ বিধায়ক যদি সমর্থন দেয়, সংখ্যা পৌঁছে যাচ্ছে ১২৫-এ!
অর্থাৎ BJP সমর্থন ছাড়াই ১২৫ বিধায়কের জোরে নীতীশ সরকার গঠন করতে পারেন—এটাই এখন বিহারের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক হিসেব।
তাই BJP যদি মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে নীতীশের কাছে বিকল্প পথ খুলে আছে—তেজস্বী যাদবের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন জোট বানানো। এমন পরিস্থিতিতে তেজস্বী হবেন উপমুখ্যমন্ত্রী, আর কংগ্রেস–বাম–AIMIM–IIP পাবেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভা পদ।
কেন নীতীশের কাছে এতগুলো বিকল্প? কারণ দিল্লির অঙ্কও একই ছবি দেখাচ্ছে
২০২৪-এর লোকসভা ভোটে BJP একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। NDA-র মোট সংখ্যা যেখানে ২৯৩, সেখানে জেডিইউ দিয়েছে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ আসন।
অর্থাৎ কেন্দ্রেও NDA সরকার নীতীশকে ছাড়া অসম্ভব।
এতেই স্পষ্ট—
শুধু বিহার নয়, কেন্দ্রেও নীতীশকে দরকার BJP-র।
তাই মুখ্যমন্ত্রী না বানানোর সাহস আদৌ পাবে কি BJP?
এই কারণেই রাজনৈতিক মহল বলছে—
বিহারের কুর্সিতে বসবেন নীতীশই, BJP আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করুক বা না করুক।
কারণ সংখ্যার অঙ্ক স্পষ্ট—নীতীশের কাছে রয়েছে NDA-র সমর্থন ছাড়াই সরকার গঠনের ক্ষমতা।
বিহার এখন অপেক্ষায়—
কবে মুঠোফোনে আসবে সেই নোটিফিকেশন—
“শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার”।








