পটনা: ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতেই বিহার নির্বাচনে এনডিএ আসন বণ্টন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। রবিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন বণ্টনের হিসেব জানাল এনডিএ নেতৃত্ব। বিজেপি ও জেডিইউ সমান সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে—এই ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয়ে গেল বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২5-এর রাজনৈতিক উত্তেজনা।
বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ও নীতীশ কুমারের জেডিইউ (JDU) — দুই দলই ১০১টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাকি ৪১টি আসনের মধ্যে চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি (রামবিলাস) ২৯টি আসনে লড়বে। আর বাকি ১২টি আসনে RSLP ও HAM (হিন্দুস্তানি আওয়াম মোরচা) প্রতিটি ৬টি করে আসন পাবে।
২০২০ সালের নির্বাচনে বিজেপি লড়েছিল ১১০টি আসনে ও জেডিইউ ১১৫টিতে। এবার দুই দল সমান সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে—যা রাজনৈতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই ধরা হচ্ছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে নয়াদিল্লিতে দলের সদর দফতরে এক বৈঠকের পর এই বণ্টনের ঘোষণা করেন।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি সহ এনডিএ-র শরিকদের শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠক শেষে বিনোদ তাওড়ে বলেন, “বিহারের সব শরিকই এই আসন বণ্টনকে স্বাগত জানিয়েছেন। আমরা একসঙ্গে ভোটে লড়ে ফের এনডিএ সরকার গঠন করব বলে আশাবাদী।”
বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে পটনায় HAM প্রধান জিতনরাম মাঝি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি এনডিএ-র অনুগত সদস্য। আসন বণ্টন নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তাতেই সম্মতি দেবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি ও জেডিইউ-এর সমান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত মূলত জোটের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা। ২০২০ সালে বিজেপি ৭৪টি আসনে জিতেছিল, আর জেডিইউ পেয়েছিল ৪৩টি। সেই সময় থেকেই বিজেপির আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু এবার সমান আসন বণ্টন করে বিজেপি ও জেডিইউ দেখাল, তারা একত্রে লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে।
এই আসন বণ্টনের ঘোষণার মাধ্যমে কার্যত রাজনৈতিক জল্পনার ইতি ঘটল। কয়েকদিন ধরে বিহারের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছিল— বিজেপি কি এবার জেডিইউ-এর চেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দেবে? নীতীশ কুমারের অবস্থান কী হবে? কিন্তু রবিবারের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়ে গেল— দুই দলই সমান গুরুত্ব নিয়ে নির্বাচনে নামছে।
বিহার বিধানসভা নির্বাচন 2025-এ দুই দফায় ভোট গ্রহণ হবে—৬ নভেম্বর ও ১১ নভেম্বর। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর। এই সময়সীমা মাথায় রেখেই এনডিএ দ্রুত আসন বণ্টনের প্রক্রিয়া শেষ করে দিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন বণ্টনের প্রাথমিক ধাপ দ্রুত শেষ হওয়ায় এনডিএ এবার প্রচার অভিযানে আগেভাগেই নামতে পারবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপি ও জেডিইউ-এর এই যৌথ কৌশল বিরোধী শিবিরের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাজ্যের প্রধান বিরোধী জোট মহাগঠবন্ধন (RJD–Congress–Left) এখনও প্রার্থী বাছাই ও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত। অন্যদিকে এনডিএ দ্রুত পরিকল্পনা ও ঐক্যবদ্ধ বার্তা দিয়ে আগাম সুবিধা নিতে চাইছে।
তবে বিরোধীরা বলছে, এই আসন বণ্টনের মধ্য দিয়ে বিজেপি নীতীশ কুমারকে ‘সম্মানজনক আসন’ দিলেও, রাজনৈতিক বাস্তবে বিজেপিই এখন প্রধান শক্তি। সেই কারণে নির্বাচনের ফলের পর ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
এনডিএ শিবির অবশ্য আশাবাদী। বিনোদ তাওড়ের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট— “বিহারে আবারও এনডিএ সরকার গঠন হবে।” এখন দেখার বিষয়, এই আসন বণ্টনের কৌশল ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।



