রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্মে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। কিন্তু বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলিতে ইংরেজির প্রাধান্যই ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার সেই চেনা ছবিতে বদলের ইঙ্গিত মিলল নবান্ন থেকেই। কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি সংক্রান্ত নির্দেশিকা সম্পূর্ণ বাংলায় প্রকাশ হওয়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। প্রশাসনের অন্দরে অনেকেই মনে করছেন, বিজেপি সরকারের আমলে সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর পথে এটাই হতে পারে প্রথম বড় পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই নির্দেশিকায় বিভিন্ন দপ্তরের আপার ডিভিশন ক্লার্ক পদমর্যাদার ৬০ জন কর্মীর পদোন্নতি সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। শুধু বিষয়বস্তু নয়, নজর কেড়েছে নির্দেশিকার ভাষা। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলির মধ্যে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের মতো জায়গা থেকে সম্পূর্ণ বাংলায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি। ইতিমধ্যেই সেই নির্দেশিকা রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে।


নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বার্ষিক মূল্যায়ন রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় মামলা বা ভিজিল্যান্স তদন্ত চলছে কি না, সম্পত্তির হিসেব নিয়মিত জমা দেন কি না, এমন একাধিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এমনকি পদোন্নতি নিতে আগ্রহী কি না, তা জানিয়ে মোবাইল নম্বর-সহ সম্মতিপত্রও জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১ জুনের মধ্যে সমস্ত তথ্য নবান্নে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অন্য বিষয়— সরকারি নির্দেশিকায় বাংলার ব্যবহার। দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবি উঠছিল যে, সাধারণ সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিদের অনেকের পক্ষেই ইংরেজি নির্দেশিকার মর্ম বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাজের গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
প্রশাসনের একাংশের মতে, অতীতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য বাংলা প্রশাসনিক অভিধান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিভিন্ন দপ্তরে বাংলার ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ স্থায়ী রূপ পায়নি। এবার বিজেপি সরকারের আমলে ‘পার’ দপ্তরের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক ভাষানীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।


যদিও নবান্নের একাংশের দাবি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ বা প্রশাসনিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে আইনি ও কারিগরি শব্দ বাংলায় প্রয়োগ করতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে ভিনরাজ্যের আমলাদের ক্ষেত্রেও সমস্যার আশঙ্কা থাকে। তবু সেই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলায় নির্দেশিকা প্রকাশের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন প্রশাসনের অনেক অভিজ্ঞ কর্তা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



