২০২২ সালে যেখানে ১৭০টির বেশি বাংলা সিনেমার শুটিং হয়েছিল, ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৩৭-এ। কিন্তু ২০২৪ সালে, প্রায় শেষ মুহূর্তে, বাংলা সিনেমার শুটিংয়ের সংখ্যা মাত্র ৩৪! এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন টলিপাড়ার পরিচালক, অভিনেতা, এবং কলাকুশলীরা। বাংলা টেলিভিশন সিরিয়ালের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আগে যেখানে ৪০–৪৫টি সিরিয়াল শুট হত, সেখানে এখন তা কমে ২৯-এ দাঁড়িয়েছে।
নির্মাতাদের মতে, ফেডারেশনের একতরফা নিয়মই এই সংকটের প্রধান কারণ।


- প্রতিদিনের শুটিংয়ের খরচ ১-১.৫ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ৫-৫.৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে।
- ন্যূনতম ৭০ জন টেকনিশিয়ান বাধ্যতামূলক, যার মধ্যে অনেকেরই কাজ থাকে না।
- অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই ছুটি ঘোষণা, যার ফলে প্রযোজকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “শুটিং কম হওয়ায় শুধু পরিচালক নয়, হাজারো কলাকুশলীও কাজ হারাচ্ছেন। এটি একটি মারাত্মক সংকেত।”
অভিনেতা-পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্যের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। হঠাৎ একটি সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য ছুটি ঘোষণা হওয়ায় ৭০ জন অভিনেতা-অভিনেত্রী নিয়ে পরিকল্পিত শুটিং বাতিল করতে হয়েছে। এর ফলে সময় এবং অর্থ দুই-ই নষ্ট হয়েছে।
ফেডারেশনের নিয়ম এড়িয়ে নির্মাতারা গোপনে শুটিং করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কলকাতার বাইরে, কেউ বা ভিনরাজ্যে শুটিং করছেন। এমনকি আন্তর্জাতিক লোকেশন থেকেও অনুমতি ছাড়া শুটিং করতে হচ্ছে।


ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “এই মুহূর্তে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেব না। ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শেষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।” তবে পরিচালকরা ইতিমধ্যেই দিল্লির কম্পিটিশন কমিশনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ঐতিহ্যশালী হতে পারে, কিন্তু আকারে খুবই ছোট। এভাবে চলতে থাকলে ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”







