শীতের শুরুতেই বাংলায় ডিমের দাম যেন আগুন। অন্ধ্রপ্রদেশে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় মন্থার তাণ্ডবে পোলট্রি খাত বিপর্যস্ত হওয়ার প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে কলকাতার বাজারে। দু’দিন আগেও যেখানে ডিম মিলছিল সাত থেকে সাড়ে সাত টাকায়, আজ সেই ডিম বিকোচ্ছে পিসপ্রতি নয় টাকায়। বাজারে দেখা যাচ্ছে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরো বিক্রেতাদের বাধ্য হয়েই দাম বাড়াতে হচ্ছে।
ফোকাস কীওয়ার্ড “ডিমের দাম” এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে, কারণ পশ্চিমবঙ্গে দৈনিক চাহিদার বড় অংশই মেটে অন্ধ্রের পোলট্রি থেকে। সেই উৎপাদন বিপর্যস্ত হওয়াতেই বাজারে কমতি তৈরি হয়েছে।
পাইকারি বাজারে বৃহস্পতিবার ডিম বিক্রি হয়েছে আট টাকায়। কোলে মার্কেটের এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, দু’দিন আগেও সাত টাকায় ডিম বিক্রি করছিলাম, এখন পাইকারি দামই আট। তাই খুচরো বাজারে নয় টাকার নিচে বিক্রি করা অসম্ভব। ক্রেতাদের সঙ্গে বচসা লেগেই রয়েছে।
অন্ধ্রের ঘূর্ণিঝড়ে ডিমের দাম আগুন বাংলায়, চাপে মধ্যবিত্ত
এক ক্রেতার অভিযোগ, মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম এক টাকার বেশি বেড়ে গেল। তাঁর কথায়, ভোটের আগে এভাবে ডিমের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ চরম সমস্যায় পড়বে। নিম্নবিত্তের জন্য ডিমই ছিল একমাত্র সস্তা প্রোটিন, সেটিও অগ্নিমূল্য হয়ে যাচ্ছে।
টাস্ক ফোর্সের সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোলে অবশ্য মনে করছেন এই সংকট সাময়িক। তাঁর দাবি, শীতকালেই ডিমের চাহিদা সাধারণত বাড়ে। চাহিদা–সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় আপাতত দাম বাড়লেও ১৫ দিনের মধ্যে বাজারে স্থিতি ফিরে আসবে।

তবে বাজার বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। অক্টোবরের অতিবৃষ্টিতে সবজির খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বেগুন, কাঁচালঙ্কা, উচ্ছে, শসা–সহ প্রায় সব সবজির দামও উচ্চচূড়ায়। ফলে মাছ-মাংসের পরে এখন ডিমও হয়ে উঠছে হাতের বাইরে।
কলকাতা এগ অ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্য জানান, শীতে মুরগির ডিম পাড়া কমে। অন্যদিকে খাবার, ওষুধ, শ্রমিক ও পরিবহণের খরচও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়ায় অন্ধ্রপ্রদেশ, হায়দরাবাদ ও পঞ্জাব থেকে ডিম আমদানি করতে হয়। পরিবহণ খরচও ডিমের দাম বাড়িয়ে তুলছে।
তিনি জানান, প্রতিদিন রাজ্যে চাহিদা থাকে চার কোটির বেশি ডিমের। অথচ স্থানীয় উৎপাদন তিন কোটি ছুঁয়েও পৌঁছয় না। ফলে বাইরের রাজ্যের উপর নির্ভরতা বাড়তেই থাকে, যা এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় সরাসরি বাজার দামে প্রভাব ফেলছে।
যদিও রাজ্য সরকার দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গ এখন ডিম উৎপাদনে স্বনির্ভর। কিন্তু বাস্তবে কলকাতা ও শহরতলার বড় অংশ এখনও ভিন রাজ্যের ডিমের উপর নির্ভরশীল। অন্ধ্রের উৎপাদন ধাক্কা খেতেই তার প্রভাব পড়েছে বাজারে, এবং মধ্যবিত্তের জন্য আবারও সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম হয়ে উঠেছে ডিমের দাম।







