মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় আবারও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিল। বিহারে আরও এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার বেলায় বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে কয়েকশো মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-12)। তীব্র উত্তেজনার মধ্যে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ—যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
শুক্রবারও বেলডাঙায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং ওই সংবাদমাধ্যমের এক চিত্রসাংবাদিক। সেদিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মোট ১২ জন কর্মী আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ।

শনিবার বেলাতেই অবরোধ, থমকে গেল জাতীয় সড়ক
বিক্ষোভকারীরা শনিবার বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তা আটকে দেন। ফলে জাতীয় সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত জমতে থাকে যানজট, চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
স্টেশন লাগোয়া রেলগেটে ভাঙচুর, ক্ষতিগ্রস্ত সিগন্যাল
শনিবার সকালে উত্তেজনার আঁচ গিয়ে পড়ে রেলপথেও। বেলডাঙা স্টেশন সংলগ্ন একটি রেলগেটে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, স্টেশনের কাছে থাকা রেলের সিগন্যাল ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি। এর জেরে শনিবারও ওই এলাকায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
অতিরিক্ত বাহিনী পাঠাচ্ছে রেল, মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী
পরিস্থিতি সামাল দিতে পূর্ব রেলের তরফে বেলডাঙায় অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলিন্দ কে দেউস্কর জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদার করতে আরপিএফ ও আরপিএসএফ-এর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে।


একই সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনার খবর পেয়ে বেলডাঙায় বড় সংখ্যায় পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
পরপর দু’দিন ধরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে। মাঠে নেমে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন মহলে। ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হল—তা নিয়েও জোরদার তদন্তের দাবি উঠেছে।









