জেলা হাসপাতাল থেকে শহরে রেফার—তারপর বেড নেই বলে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘোরাঘুরি। বহুদিনের এই দুর্ভোগ ঠেকাতেই সোমবার থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু করল রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। West Bengal Health Department-এর উদ্যোগে স্বাস্থ্য ভবন-এ শুরু হয়েছে ‘বেড-ওয়াচ’ ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম—যার লক্ষ্য, রেফারের আগেই নিশ্চিত করা শহরের কোন সরকারি হাসপাতালে বেড খালি আছে।
৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকেই কাজ শুরু করেছে এই কন্ট্রোল রুম। এখানে ১২ জন আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—ডা. দেবযানী বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. সুনেত্রা কবিরাজ রায়, ডা. তৌসিফ রবি, ডা. সুমন দত্ত, ডা. তনুজা কবির, ডা. সুস্মিতা চক্রবর্তী, ডা. জয়শ্রী পাঠক, দিলীপ কুমার গিরি গোস্বামী, জয়তী বন্দ্যোপাধ্যায়, রুচিরা বন্দ্যোপাধ্যায়, তুহিন রায় ও প্রীতম দাস। সোম থেকে শনিবার, দু’টি শিফটে চলবে কন্ট্রোল রুম—সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টো এবং দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৭টা। লক্ষ্য একটাই—সরকারি হাসপাতালে যেন রোগী বা তাঁদের পরিবার কোনও অবস্থাতেই অসুবিধায় না পড়েন।

নয়া ব্যবস্থার সুফল ব্যাখ্যা করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ-এর অধ্যক্ষ ডা. ইন্দ্রনীল বিশ্বাস জানান, গ্রাম থেকে শহরে রেফার করার আগেই গ্রামীণ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানতে পারবেন কোথায় বেড খালি। যে হাসপাতালে শয্যা পাওয়া যাবে, সেখানেই রোগীকে পাঠানো হবে—ফলে অযথা ঘোরাঘুরি ও সময় নষ্ট বন্ধ হবে।
‘বেড-ওয়াচ’ কন্ট্রোল রুমের নম্বর—(০৩৩) ২৩৩৩-০৫৪২ এবং (০৩৩) ২৩৫৭-৭৯২৬। কন্ট্রোল রুমের সার্বিক তদারকিতে থাকবেন স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিক ডা. দীপঙ্কর মাজি।
শুধু রেফার ব্যবস্থাই নয়—ওপিডি পরিষেবার শৃঙ্খলাও নজরে রাখবে এই কন্ট্রোল রুম। সদস্য ডা. জয়শ্রী পাঠক জানান, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ওপিডি খোলা থাকছে কি না, চিকিৎসকরা সময়ের আগে অনুপস্থিত হয়ে পড়ছেন কি না—এসবও কড়া নজরে রাখা হবে। উদ্দেশ্য, রোগী পরিষেবায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।









