বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণাবর্তের জেরে আবহাওয়ার বদলের ইঙ্গিত। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণাবর্ত আগামী ১২ অগস্টের দিকে শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ফের বৃষ্টির দাপট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরই মধ্যে মৌসুমি অক্ষরেখাও বাংলার উপর দিয়ে বিস্তৃত। ফলে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমি অক্ষরেখার জোড়া প্রভাবে রাজ্যে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনায় মৎস্যজীবীদের জন্যও সতর্কতা জারি হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা ঘূর্ণাবর্তটি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। সেটি নিম্নচাপে পরিণত হলে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উপকূলের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানও এই মুহূর্তে বৃষ্টির জন্য অনুকূল। দিঘার উপর দিয়ে বিস্তৃত অক্ষরেখার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের নতুন সিস্টেম যুক্ত হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কলকাতার আকাশ মঙ্গলবার মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। তবে সারাদিন যে বৃষ্টি চলবে, এমনটা নয়। মাঝেমধ্যে রোদ উঠতে পারে। তারই মধ্যে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দু’-এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিও বজায় থাকবে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কলকাতায় মোট ৬৮.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার তাপমাত্রার খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি নজরে রাখছে হাওয়া অফিস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে বুধবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং হাওড়ায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। ফলে গাছ ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিঘ্ন বা নিচু এলাকায় জল জমার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরও উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও আপাতত স্বস্তির বিশেষ সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার মালদা ও দুই দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বুধবার বৃষ্টির দাপট সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও বৃহস্পতিবার ফের তা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে। রবিবার এই পাঁচ জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে আগামী কয়েক দিন বাংলার আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং উত্তাল সমুদ্রের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্তটি শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তি সঞ্চয় করে, তার উপরই আগামী দিনের বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই নির্ভর করবে।



