বারাসত মর্গ-কাণ্ডে মৃতের পরিবারকে বড় সহায়তা, মাকে সরকারি চাকরি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

মর্গে চোখ খুবলে নেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত বারাসত। বিক্ষোভের মাঝে মৃত যুবকের মাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আশ্বস্ত করলেন পরিজনদের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বারাসত মেডিক্যাল কলেজের মর্গে মৃত যুবকের চোখ খুবলে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেই মানবিক সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে ঘিরে ক্ষুব্ধ মানুষের বিক্ষোভের সময় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন—মৃত যুবকের মাকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। এই ঘোষণা মুহূর্তেই শান্ত করে পরিস্থিতি, যা বিকেল পর্যন্ত বারাসতের যশোর রোডে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।

মঙ্গলবার বনগাঁ থেকে কলকাতায় ফেরার পথে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজের সামনে আটকে যায়। হাসপাতালের মর্গে প্রীতম ঘোষ নামে ৩৪ বছর বয়সি এক যুবকের চোখ খুবলে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে পরিবারের ক্ষোভ তখন চরমে। পরিজন এবং স্থানীয়রা রাস্তায় অবরোধ শুরু করেন এবং ঘটনার বিচার দাবি করতে থাকেন।

মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নেমে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন, শোনেন পরিবারের ক্ষোভ, শোক এবং অভিযোগ। পরিবারের বক্তব্য, দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়ার পরে প্রীতমকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু পরের দিন দেহ নিতে গিয়ে তারা দেখেন—একটি চোখ নেই।

বারাসত মর্গ-কাণ্ডে মৃতের পরিবারকে বড় সহায়তা, মাকে সরকারি চাকরি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

এই অভিযোগ শুনে মমতা স্পষ্ট বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কীভাবে এমন ঘটল, তা পুরোপুরি তদন্ত হবে। দোষী প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এরপরই তিনি জানান—প্রীতমের মা পরিবারটির আর্থিক টানাপোড়েন সামলাতে সরকারি চাকরি পাবেন। নিহত যুবকের মা ছিলেন পুরো পরিবারের ভরসাস্থল, আর ছেলের মৃত্যুতে সংকট আরও গভীর হয়ে ওঠে। সেই কারণেই চিকিৎসা-অব্যবস্থার অভিযোগের মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা পরিবারকে স্বস্তি দেয়।

বারাসত মর্গ-কাণ্ডে মৃতের পরিবারকে বড় সহায়তা, মাকে সরকারি চাকরি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
বারাসত মর্গ-কাণ্ডে মৃতের পরিবারকে বড় সহায়তা, মাকে সরকারি চাকরি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

স্থানীয়রা জানান, মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। যারা বিক্ষোভ করছিলেন, তাঁদের অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। প্রশাসনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসেই উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং পরে অবরোধ উঠে যায়।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—মর্গে রাখা অবস্থায় কীভাবে চোখ হারাল প্রীতমের দেহ? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, আলাদা করে ফরেনসিক রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে হাসপাতালের মর্গ, স্টাফদের ভূমিকা এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে।

প্রীতম ঘোষ ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর মৃত্যুতে যে ভয়ংকর সংকট তৈরি হয়েছে, তা মমতা নিজের চোখে দেখেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সরকারি চাকরির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুললেও, বারাসত মর্গ-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিক সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যেখানে বিক্ষোভের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আটকায়, সেখানে তিনি পরিস্থিতি সামাল দেন সংলাপ এবং সহানুভূতির মাধ্যমে—এমন ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়।

সব মিলিয়ে, মর্গে দেহের ‘অঙ্গহানি’ অভিযোগের তদন্ত যতটা জরুরি, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা—মৃত যুবকের মাকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে, যা অন্তত তাত্ক্ষণিক সান্ত্বনা দিল শোকাহত পরিবারকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত