“নমঃ নমঃ নমঃ বাঙলা দেশ মম, চির-মনোরম চির-মধুর/ বুকে নিরবধি বহে শত নদী, চরণে জলধির বাজে নূপুর”, ‘বাংলাদেশ’ শীর্ষক কবিতায় লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। হ্যাঁ, তিনি হয়তো অবিভক্ত বাংলাকে নিয়েই সেসময় লিখেছিলেন। কিন্তু, বর্তমান বাংলাদেশের চেনা চিত্রটা আর একেবারেই নেই। আর কেন এই প্রতিবেদনের এই শুরুতে নজরুলেরই এই ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি উল্লেখিত হল। তারও কারণ রয়েছে। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্করণ এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপসারণের দাবিতে হাজার হাজার ছাত্র-যুব আজ রাস্তায় নেমেছে। একটা সময় আর এক মনীষী স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগোতে গিয়েছিলেন। স্বামীজীর বক্তব্য এবং ব্যক্তিত্বে তখন সমগ্র আমেরিকাবাসী মুগ্ধ। তখন তিনি বলেছিলেন, তোমরা যদি ভারতবর্ষে যাও তাহলে ঘরে ঘরে আমার মতো একরকম বিবেকানন্দ দেখতে পারবে।
ঠিক সেরকমই কাজী নজরুল ইসলাম। যিনি স্বভাবের দিক থেকেই বিদ্রোহী কবি। বর্তমানের বাংলাদেশের আন্দোলন দেখেও মনে হচ্ছে, সকলের মধ্যেই যেন সেই নজরুলের বিদ্রোহী সত্ত্বার একটা প্রভাব রয়েছে। কবি অর্থে নয়, স্বভাবগত দিক থেকে। তাই নজরুলের এই কবিতা দিয়েই লেখার শুরু। রবিবার এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। মনে রাখতে হবে এটা কিন্তু দ্বিতীয় দফা। আগের দফার আন্দোলনে প্রাণ ঝরে ২০৯ জনের (সরকারি তথ্য অনুযায়ী)। এরপর সুপ্রিম কোর্ট, কোটা সংস্কার করতে বাধ্য হয়। এবার আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, শেখ হাসিনার অপসারণ।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় পড়ুয়া এবং যুব সমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদের দাবি একটাই, শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ। রবিবার থেকে শুরু হয়েছে অসহযোগ আন্দোলন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শাসক দল আওয়ামী লীগের কর্মী এবং পুলিশদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের মধ্যে ১৪ জন পুলিশ। মূলত সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ১৩ জন পুলিশ নিহত হয়েছেন এই সংঘর্ষে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার থেকে বাংলাদেশে তিন দিন ছুটি ঘোষণা করেছে হাসিনা সরকার। এদিকে বাংলাদেশে নতুন করে হিংসা ছড়ানোয় ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক করল দিল্লি। জরুরি পরিস্থিতিতে একটি নম্বরে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে। সেটি হল, +88-01313076402। শনিবার, বিক্ষোভকারীদের কাছে আলোচনার প্রস্তাব করে বাংলাদেশ সরকার। যদিও শান্তিপ্রস্তাব বেশি দূর এগোয়নি। দেশের শিল্পী সমাজ এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। একদিকে যেমন শেখ হাসিনাকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে মিম, ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন আবার রাস্তায় নেমে সমবেতভাবে জাতীয় সংগীতও গাইছেন আন্দোলনকারীরা।



