10th ফেব্রুয়ারি, 2026 (মঙ্গলবার) - 3:35 অপরাহ্ন
28 C
Kolkata

অশান্ত বাংলাদেশে নিরাপত্তা সংকট: আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও দেহরক্ষী চেয়ে আবেদন বহু রাজনীতিকের

১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও ২৫ জন সরকারি আধিকারিকের আবেদন খতিয়ে দেখতে বৈঠকে বসছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, তালিকায় জামাতের শীর্ষ নেতাও

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার আবহে প্রাণসংশয়ের কথা জানিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স বা ব্যক্তিগত দেহরক্ষী চেয়ে আবেদন করেছেন বহু রাজনীতিক। দলমত নির্বিশেষে কমপক্ষে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নিরাপত্তার আবেদন করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে সে দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র প্রথম আলো। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখতে চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসতে চলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

শুধু রাজনীতিক নন, আবেদন সরকারি আধিকারিকদেরও

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুধু রাজনীতিকই নন—২৫ জন সরকারি আধিকারিকও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স অথবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী চেয়ে আবেদন করেছেন। ক্রমাগত হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণের জেরে প্রশাসনিক মহলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

কারা রয়েছেন তালিকায়

নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার শীর্ষ নেতারা, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

এতে স্পষ্ট, নিরাপত্তা আশঙ্কা কেবল শাসক বা বিরোধী—কোনও এক রাজনৈতিক শিবিরে সীমাবদ্ধ নয়।

হাদি হত্যার পরেই বাড়ে আবেদন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তা প্রথম আলো-কে জানিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি-কে গুলি করার ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা চেয়ে রাজনীতিকদের আবেদন ও খোঁজখবর নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও তার আগেও কয়েক জন নেতা এই ধরনের আবেদন করেছিলেন বলে জানান তিনি।

ঢালাও লাইসেন্স নয়, সতর্ক সরকার

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের অপব্যবহারের আশঙ্কায় সরকার ঢালাও লাইসেন্স দেওয়ার পথে হাঁটছে না। প্রতিটি আবেদন আলাদা করে প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেই আগ্নেয়াস্ত্র বা দেহরক্ষীর অনুমোদন মিলবে।

ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ওসমান হাদি। সরকারি উদ্যোগে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ছ’দিন পর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে নতুন করে অশান্তি ছড়ায়।

পুলিশ জানিয়েছে, হাদির হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যেই চট্টগ্রামের লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁর সাত বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। বেলাল ও তাঁর দুই নাবালিকা কন্যা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ সপ্তাহেই খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতা মহম্মদ মোতালেব শিকদারকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

রাজনৈতিক মহলে আতঙ্ক

একটির পর একটি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই অনেক নেতা সরকারি নিরাপত্তার পাশাপাশি নিজেদের সুরক্ষা নিজেরাই নিশ্চিত করতে চাইছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত

Discover more from Najarbandi | Get Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading