নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে কোরান রাখার ঘটনায় কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করা হল ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ইকবাল হোসেন কে। পরিকল্পনা মাফিক কুমিল্লার একটি দুর্গামণ্ডপে হনুমান মুর্তির কোলে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান রাখার ঘটনাকে ঘিরে ছড়িয়েছিল অশান্তির আগুন। সেই আগুনেই পুড়ে ছারখার হয়ে যায় একের পর এক ধর্মীস্থান। সাম্প্রদায়িক হানায় খুন হন একাধিক নিরাপরাধী।
আরও পড়ুনঃ ভাই ফোঁটার পর স্কুল খোলার সম্ভাবনা নেই, কোভিড বিধি মেনে হতে পারে পুরভোট।
এবার সেই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড কে গ্রেফতার করল কক্সবাজার থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার মূল চক্রী হিসেবে ইকবাল হোসেন কে নিয়ে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশ পুলিশ। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ বাংলাদেশের কক্সবাজার এলাকার সমুদ্র সৈকত থেকে ইকবালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, কুমিল্লার দুর্গা পুজোর মণ্ডপে কোরান রাখার ঘটনার তদন্তে নেমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছিল এক যুবক রাতের অন্ধকারে হাতে কিছু একটি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। অভিযোগ, ওই যুবকই ইকবাল। তারই হাতে ছিল পবিত্র কোরান। এরপর সে সেটিকে দুর্গা মণ্ডপে রাখে। এদিকে ঘটনার জেরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগার পরিস্থিতি তৈরী হয় বাংলাদেশ জুড়ে। সারা দেশে হিন্দু ধর্মস্থান গুলিকে টার্গেট করা হয়। মৃত্যু হয় একাধিক ব্যাক্তির।
ঘটনার জেরে নড়ে চড়ে বসে হাসিনা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানান, যারা অপরাধী তাঁদের ছাড়া হবে না। তারপরেই অপরাধীদের ধরতে আদাজল খেয়ে নামে পুলিশ। সাম্প্রদায়িক উস্কানির ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ৫৮৪ জন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের কাছে মোট অভিযোগ জমা পড়েছে ২০ হাজার ৬১৯ টি। হয়েছে ১০২ টি পৃথক মামলা।
বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে কোরান

এদিকে ইকবালের মা আমেনা বেগম জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজে যাকে দেখা যাচ্ছে, সেটা আমার ছেলের ছবি। ও রংয়ের কাজ করত। নেশাখোর। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, হিন্দুদের ওপর পরিকল্পিত হামলার যে ছক কষা হয়েছিল, তাতে ইকবালকে ব্যবহার করল কারা? কারা ভবঘুরে ইকবালকে নির্দেশ দিয়েছিল কোরান দুর্গাপুজো মণ্ডপে রেখে আসতে? এখন সেই খোঁজই চালাচ্ছে পুলিশ।



