বাংলাদেশের কুখ্যাত মাফিয়া বাহারকে আটক করেও মুক্তি দিল কলকাতা পুলিশ! কেন? উঠছে প্রশ্ন

বাংলাদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বাহারকে গ্রেপ্তার করলেও রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের কুখ্যাত মাফিয়া বাহারকে ঘিরে ফের বিতর্ক। সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, উঠছে বড়সড় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও।

প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, বাহার বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত। চাঁদাবাজি, মাদক পাচার থেকে শুরু করে একাধিক খুনোখুনির সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে। কলকাতায় তার লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে মুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর থেকেই কলকাতা পুলিশকে ঘিরে তুমুল প্রশ্ন উঠছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন আন্তর্জাতিক অপরাধীর বিরুদ্ধে যখন এতগুলি অভিযোগ, তখন এত সহজে তাকে মুক্তি দেওয়া অস্বাভাবিক। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও প্রশ্ন তুলেছেন, কলকাতা কি তবে মাফিয়াদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে?

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাহারের পেছনে রাজনৈতিক লবির চাপ কাজ করছে। বাংলাদেশে তার অপরাধ জগতের বিস্তার এতটাই বড় যে, প্রশাসনের একাংশও তাকে ছুঁতে সাহস পায় না। এবার কলকাতাতেও তার প্রভাবশালী সংযোগ সামনে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক পুলিশ আধিকারিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় জানান, বাহারকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আদালতের নির্দেশেই হয়েছে। তবে তদন্তকারী মহলের মতে, এর পেছনে চাপের রাজনীতি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের ভাবমূর্তি বড়সড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের মাফিয়া বাহারকে নিয়ে কলকাতা পুলিশের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বহু নাগরিক প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্র অপরাধ করলে যেখানে বছরের পর বছর জেলে কাটান, সেখানে কুখ্যাত মাফিয়া এত সহজে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে কীভাবে?

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বাহারের মতো মাফিয়াদের ছেড়ে দেওয়া হলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচার আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে শুধু দুই দেশের আইনশৃঙ্খলাই নয়, সীমান্তবর্তী এলাকার সামাজিক স্থিতিও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে পুলিশের দাবি, তদন্ত এখনও চলছে এবং বাহারের বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় হলে আইনি প্রক্রিয়ায় আবারও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও সমালোচকদের বক্তব্য, এত বড় অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করা কোনও চ্যালেঞ্জ নয়, বরং তাকে আড়াল করার চেষ্টা স্পষ্ট।

বাংলাদেশের কুখ্যাত মাফিয়া বাহারকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ঢাকার প্রশাসনও এই ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখছে। আগামী দিনে বাহারকে ফের গ্রেপ্তার করা হবে কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত