ঢাকার ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের নামকরণে একটি নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম’ এর নাম বদলে ‘জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা’ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ সূত্রে জানা যায়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউনুস সরকারের নীতি অনুযায়ী, ‘কোনও স্টেডিয়াম বা সৌধের নাম বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নামে থাকবে না।’ এর ফলে, দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেডিয়াম শুরুতে ঢাকা স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল। পরে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। তবে, ১৭ বছর পর ইউনুস সরকারের শাসনামলে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটে এবং ঢাকার এই স্টেডিয়াম থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ নাম মুছে ফেলা হয়।
এটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন, কারণ এই মাঠে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ, আইসিসি নকআউট কাপ, এবং ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই মাঠে খেলা পরিচালনা করেছেন মহম্মদ আলি, লিওনেল মেসির মতো খ্যাতনামা ক্রীড়াবিদরা।
সাম্প্রতিক সময়ে, অন্তর্বর্তী সরকার একে একে দেশব্যাপী বেশ কিছু স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করেছে, যার মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ১৫০টি স্টেডিয়ামের নামকরণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে, জাতীয় পর্যায়ের কোনও স্টেডিয়ামের নামকরণ এটাই প্রথম।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ইউনুস সরকার বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে, কারণ মুজিব ও তাঁর পরিবারের ইতিহাস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এটি কি বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ের শেষ? ক্রীড়া ও রাজনীতি কীভাবে মিশে যাবে ভবিষ্যতে, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।







