দেশজুড়ে যে দিনটির অপেক্ষা করা হয়েছিল, বহু প্রতীক্ষার পর আজ সেই শুভক্ষণ। অযোধ্যার রাম মন্দিরের উদ্বোধন হতে চলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্তের সমাগম হয়েছে। দেশ-বিদেশের বহু ভিভিআইপিরা আমন্ত্রিত। উৎসবের আবহে সেজে উঠেছে সরযূ নদীর তীর। হলফ করে বলা যায়, বিগত কয়েক দশকে এত বড় অনুষ্ঠান দেশবাসী দেখেনি। তবে রাম মন্দির তৈরি হওয়ার যাত্রাপথ সহজ ছিল না। নানা বিতর্ক, বাধা পেরিয়ে অবশেষে আজ রাম লালা ঘরে ফিরছেন। কী ছিল সেই বিশাল ইতিহাস, জেনে নিন।
আরও পড়ুন: ধর্মে ইসলাম, তিনিই বাবরি মসজিদের নীচে খুঁজে পান রাম মন্দির, জানুন এই প্রত্নতত্ত্ববিদকে


কথিত আছে, ১৫২৮ সালে মুঘল সাম্রাজ্য চলাকালীন মীর বাকি বাবরি মসজিদ (Babri Masjid)তৈরি করেছিলেন। ১৮৮৫ সালে মহন্ত রঘুবীর দাস গুরুতর অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাম জন্মভূমির স্থানে বাবরি মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীকালে এই মামলা খারিজ করে দেয় আদালত। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিতর্কিত কাঠামোর বাইরের একটি জায়গায় রামের মূর্তি স্থাপন করা হয়। এক বছরের মাথায় ১৯৫০ সালে গোপাল বিশারদ নামের এক ব্যক্তি আদালতে মামলা দায়ের করে প্রতিষ্ঠিত রাম মূর্তির পুজো করার অনুমতি চান। ১৯৫৯ সালে নিরমোহী আখড়া বিতর্কিত জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ফইজাবাদ আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ১৯৬১ সালে একই দাবিতে ফের একটি মামলা দায়ের হয়।

দীর্ঘ শুনানির পর আদালত রায় দেয়, বিতর্কিত ওই জায়গায় হিন্দুরা পুজো করতে পারবেন। ১৯৮৯ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদালতে মামলা করেন। ১৯৯২ সালে বিতর্কিত জমিতে গড়ে ওঠা কাঠামো ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার একটি আইন পাশ করে এবং সেই আইনের বলে বিতর্কিত জায়গার দখল নেয়। একই বছরে হাইকোর্টে (High Court) একাধিক পিটিশন দাখিল করা হয়। ১৯৯৪ সালে এই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয় দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। ২০০২ সালে বিতর্কিত জমির অধিকার কাদের কাছে থাকবে সেই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হয় এলাহাবাদ হাইকোর্টে। ২০০৩ সালে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় বিতর্কিত স্থানে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে না। এমনকি কোনও ধর্মের মানুষ ওই জমি ব্যবহার করতে পারবে না। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং নিরমোহী আখড়ার মধ্যে ভাগ করে দেয়। কয়েক মাসের মধ্যেই হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে ‘সুপ্রিম’ স্থগিতাদেশ জারি করা হয়।



২০১৬ সালে এক বিজেপি নেতা সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করে দাবি জানান, বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির তৈরি করার অনুমতি দিতে হবে। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ সিয়া ওয়াকফ বোর্ড ১৯৯৪ সালের হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা দায়ের করে। একই বছর নভেম্বর মাসে ইউপি সিয়া ওয়াকফ বোর্ড আদালতে জানায়, অযোধ্যায় রাম মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) তৈরি করার অনুমতি দেওয়া হোক এবং মসজিদ তৈরি হোক লখনউয়ে। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে ৩২ টি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি শুরুতেই ওই মামলার শুনানি শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্ট রায়দান স্থগিত রাখে।
বাবরি মসজিদ থেকে রাম মন্দির, বিতর্ক-কঠিনতা পেরিয়ে আজ অযোধ্যায় ফিরছেন রাম লালা

২০১৯ সালে এই মামলার শুনানির জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করা হয়। নভম্বর মাসে ৭০ বছরের মামলার শুনানির ইতি হয়। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানায়, কেন্দ্রের তরফে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে। পাশাপাশি ২.৭৭ একর জমি পাবে যেখানে রাম মন্দির তৈরি করা হবে। অন্যদিকে মসজিদ তৈরির জন্য ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। ২০২০ সালের ৫ আগস্ট রাম মন্দিরের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪ আনুষ্ঠানিকভাবে রাম মন্দিরের উদ্বোধন হবে। রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে। আজ কয়েক দশকের অপেক্ষা অবসান ঘটবে।







