২৬ দিনে ৬০ সভা-রোড শো, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেকই তৃনমূলের তুরুপের তাস।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২৬ দিনে ৬০ সভা-রোড শো, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেকই তৃনমূলের তুরুপের তাস। নির্বাচনের আগে হোক বা পরে বরাবর তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে ফেলতে বরাবরই বিরোধীরা নিশানা করেছে যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে বিরোধীদের ব্যক্তিগত আক্রমনকে দূরে সরিয়ে এই নির্বাচনের প্রচারে অভিষেকই যে দলের তুরুপের তাস তা তাঁর ব্যস্ত কর্মসূচী দেখেই বোঝা যাচ্ছে। অভিষেকের সর্বশেষ সূচি বলছে, ২৬ দিনে রাজ্যের ১০টি জেলায় ৬০টি বিধানসভায় জনসভা, রোড শো রয়েছে তাঁর। মোট ৪৬টি সভা এবং ১৪টি রোড শো করার কথা তৃণমূল সাংসদের।

আরও পড়ুনঃ এবার মোদির রাজ্যে পাশ হল বিতর্কিত লাভ জিহাদ বিরোধী বিল

বিজেপি সহ বিরোধীরা যতই তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমন করুক এবারের নির্বাচনে উত্তর থেকে দক্ষিন সর্বত্র প্রচারে তারকা তিনিই। একের পর এক প্রচারের ব্যস্ত কর্মসূচীর জন্য দল তাঁর জন্য আলাদা একটি হেলিকপ্টার বরাদ্দ করেছে। আগামী দুই দফা নির্বাচন পর্যন্ত সূচি অনুযায়ী তাঁর ও মমতার প্রচারসভার সংখ্যা সমান। এদিকে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর দলকে সাফল্য এনে দিতে একের পর এক রাজ্যের সমস্ত প্রান্তে সভা করছেন তিনি। । ২৭ মার্চ প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য গত ১৪ মার্চ থেকে প্রচার শুরু করেছেন অভিষেক। মার্চ মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত মোট ৩৯টি জনসভা এবং রোড শো করেছেন তিনি। প্রথম দফায় যেহেতু দুই মেদিনীপুর সহ জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে নির্বাচন ছিল, তাই মূলত ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই মেদিনীপুর চষে ফেলেন অভিষেক। দ্বিতীয় দফার জন্য দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাতেও সভা করেন অভিষেক। ৩১ মার্চ উত্তরবঙ্গের কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে তিনটি জনসভা করার জন্য চলে আসেন অভিষেক।

আবার মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার উত্তরবঙ্গে প্রচার শুরু করতেই এ দিন তৃণমূল সাংসদ চলে এসেছেন দক্ষিণবঙ্গে তাঁর খাসতালুক ডায়মন্ড হারবারে। ২ থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে আরও ২১টি জনসভা এবং রোড শো করার কথা তাঁর। আর এবার প্রচারে মূলত দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাতেই জোর দেবেন অভিষেক। কেন প্রচারে মুখ অভিষেক। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘অভিষেকের প্রতি কম বয়সি ভোটারদের আকর্ষণ রয়েছে। তাছাড়া অভিষেক তৃণমূলের যুব সংগঠনেরও দায়িত্বে রয়েছেন। ওঁর সভাগুলিতেও ভাল ভিড় হয়।’ ভোট প্রচারে তৃণমূলের জনসভাগুলির দিকে তাকালে দেখা যাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাগুলিতে মহিলাদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। আবার অভিষেকের জনসভা বা রোড শোয়ে কম বয়সিদের বেশি করে চোখে পড়ে। অন্য এক তৃণমূল নেতার কথায়, “রাজ্যের কম বয়সি ভোটারদের টার্গেট করতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অভিষেক কতটা জনপ্রিয় ওদের কোনও ধারণাই নেই। মানুষকে টেনে আনার ক্ষমতা অভিষেকের রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পর অভিষেকই একমাত্র নেতা, যাঁর সভায় ভাল ভিড় হচ্ছে। মানুষ ওঁকে একবার দেখতে চায়, ওঁর কথা শুনতে চায়।”

২৬ দিনে ৬০ সভা-রোড শো, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেকই তৃনমূলের তুরুপের তাস। অন্যদিকে অভিষেককে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। এক বিজেপি নেতার কথায়, “অভিষেক যত বেশি প্রচার করবেন, ততই পরিবারতন্ত্র এবং তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়বে। এতে আখেরে বিজেপি-রই সুবিধে হবে।” তবে যে যাই বলুক এবারের নির্বাচনে জয়ের জন্য তৃনমূলের অন্যতম মুখ যে অভিষেক তা বলাইবাহুল্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন