নজরবন্দি ব্যুরোঃ নাম নেই মেধা তালিকায়। এমনকি নেই ওয়েটিং লিস্টেও নেই নাম। তবুও চাকরি দেওয়া হয়েছে। এমন একটি মামলার শুনানিতে স্তম্ভিত কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকি একটি অডিও ক্লিপ শোনানো হয় আদালতকে। কত টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন তা জানতে চায় আদালত। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে কলকাতা হাইকোর্টে।
আরও পড়ুনঃ Asansole: বিজেপিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকবেন তৃণমূল বিধায়ক
মামলা চলাকালীন এজলাসে উপস্থিত ছিলেন কুতুবপুর নবআদর্শ হাইস্কুলের জীবন বিজ্ঞানের নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক গুরুপদ ঘড়াই। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, এসএসসি আয়োজিত প্রথম স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্টে সফল না হয়েও, মেধাতালিকার কোথাও জায়গা না পেয়েও তিনি চাকরি পেয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্যে একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
বিচারপতির প্রশ্ন, আপনি কি মেধাতালিকা বা ওই পরীক্ষার কোনও প্যানেলে ছিলেন? বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কত টাকা দিয়ে চাকরি কিনলেন? কে চাকরি বিক্রি করল আপনাকে? আরটিআই কি চাকরি দেয়? পরীক্ষা দিয়েছেন, অথচ পরীক্ষায় পাশ করলেন কি না তা দেখলেন না? আবার চাকরিও করছেন। এটা হতে পারে বলুন তো!

গুরুপদ ঘড়াইয়ের উত্তর ছিল পরীক্ষা ভাল দিয়েছিলাম। এটাই শেষ এসএসসি ছিল আমার। একাই ঘোরাঘুরি করি চাকরির জন্য। আরটিআইয়ের পর নম্বর বাড়ে। তার কয়েক দিন পর একটি ফোন আসে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের অফিসে যেতে বলা হয়। সেই মতো আমি যাই। ওই দিনই ইন্টারভিউ দিয়ে সুপারিশপত্র হাতে পাই। তারিখটা ছিল ২০১৯ সালের ২০ মার্চ। এসএসসি ডেকে চাকরির সুপারিশ পত্র দেয়। নিশ্চয়ই আমার নাম চাকরির জন্য এসেছিল, তাই চাকরি দিয়েছে। মেধাতালিকায় নাম ছিল কিনা আমার জানা নেই।
এরপরেই ধমক দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আপনাকে ডিআইজি সিআইডি-এর হাতে তুলে দেব। আপনাকে অ্যান্টি রাইডিং সেকশনের অফিসারদের কাছে পাঠাবো। কালই পাঠাবো। আপনাকে বিশদে জিজ্ঞাসাবাদ করে সব বার করবে ডিআইজি সিআইডি। সত্যি কথা বলুন। আপনার অ্যাডমিট কার্ডের সঙ্গে আপনার ছবিও ঠিক মতো মিলছে না। ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিয়োগপত্র এবং সুপারিশপত্র নিয়ে ওই শিক্ষককে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি।
পাশ করলেও আপনি চাকরী পাবেন না, ফাঁস অডিও, কড়া পদক্ষেপ আদালতের

উল্লকেহ্য, এদিন মামলা চলাকালীন অডিও ক্লিপ আদালতের সামনে তুলে ধরেন বিচারপতি। এর মধ্যে একটি পুরুষ কন্ঠকে মহিলা কন্ঠের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষকের চাকরি দেবেন। এ রাজ্য থেকে বিএড করা এমন কেউ চেনা জানা থাকলে জানাবেন। পাল্টা মহিলা জবাব দেন এত টাকা দেওয়ার সামর্থ তাঁর নেই। তিনি পাশ করেছেন। এরপরেই পুরুষ কন্ঠের তরফে বলতে শোনা যায়, পাশ করলেও আপনি চাকরি পাবেন না। পরীক্ষায় সাদা খাতা জমা দিলে সব থেকে ভাল হয়। ফেল করলেও চলবে। আমরা এমন অনেকেই চাকরি করে দিয়েছি।



