মেসি-সুয়ারেজদের কলকাতা সফর ঘিরে বিতর্ক নতুন মোড় নিল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে গত বছরের বহুচর্চিত বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। এই পদক্ষেপকে ‘সত্যের জয়’ বলে উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শতদ্রু।
এফআইআরের কপি প্রকাশ করে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর অবশেষে তদন্তের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের তারকা লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও রড্রিগো দি’পল কলকাতায় এসেছিলেন। ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা চরম বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়।
অভিযোগ, টিকিট বিক্রি ও প্রবেশ ব্যবস্থাপনায় একাধিক গলদ ছিল। গ্যালারির নিরাপত্তা ভেঙে বহু দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কলকাতার অনুষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনার মুখে পড়ে। অন্যদিকে মুম্বই, দিল্লি ও হায়দরাবাদের অনুষ্ঠান তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছিল।
এই ঘটনার জেরে সে সময় আইনি জটিলতায় পড়তে হয়েছিল আয়োজক শতদ্রু দত্তকেই। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি প্রকাশ্যে একাধিক অভিযোগ সামনে আনতে শুরু করেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বিপুল সংখ্যক টিকিট ও পাসের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
শতদ্রুর আরও অভিযোগ, তিনি আপত্তি জানালে তাঁকে হুমকির সুরে কথা বলা হয়। পাশাপাশি মেসির সঙ্গে ছবি তোলা এবং অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এমনকি সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়ে আগাম সতর্ক করার পরও পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলেও দাবি তাঁর।
বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এর আগেই জানিয়েছিলেন, এই ঘটনায় প্রতারিত দর্শকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শতদ্রুও দাবি করেছেন, তাঁর কাছে একাধিক ভিডিও-প্রমাণ রয়েছে এবং তিনি শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এফআইআর দায়ের হওয়ার পর রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে শুধুমাত্র এফআইআর রুজু হওয়া মানেই গ্রেফতারি নয়। তদন্তকারী সংস্থা প্রমাণ, সাক্ষ্য ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ফলে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।



