নজরবন্দি ব্যুরোঃ হেফাজতে পাওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় অর্পিতা মুখোপাধ্যায় এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জেরা করছেন ইডি আধিকারিকরা। তার মাঝেই চলছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জোকা ইএসআই হাসপাতালে চলছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা। সেখানে ঢোকার মুখে আজ অর্পিতা বলেন, “আমার অনুপস্থিতিতে টাকা রাখা হয়েছে।” হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময়ও একই কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে, “টাকা আমার না। আমার অজান্তে আমার ঘরে এই টাকা ঢোকানো হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ স্কুল সার্ভিস দুর্নীতিতে জড়িয়ে পার্থ ছাড়া আরও শতাধিক, শাহকে তথ্য দিলেন শুভেন্দু।

টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে ২১ কোটি ৯০ লক্ষ নগত, ৭৩ লক্ষ টাকার গয়না উদ্ধার করেছিল ইডি। এরপর বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া গিয়েছে ২৭ কোটি ৯০ লাখ নগত, ৩ কেজি সোনা এবং অনেক রৌপ মূদ্রা। কিছুদিন আগেই অর্পিতা দাবি করেছিলেন এই সব টাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। জিজ্ঞাসাবাদে অর্পিতা স্বীকার করেছেন যে TET এবং SSC শিক্ষক নিয়োগ, ট্রান্সফার পোস্টিং এবং কলেজে স্বীকৃতি পাওয়ার পরিবর্তে এই ঘুষ নেওয়া হয়েছিল।

পার্থ বাবুর বাড়ি থেকেও মেলে অর্পিতার সাথে লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ নথি। অর্পিতার ফ্ল্যাট থকেও উদ্ধার হয়েছে শিক্ষা দফতরের নাম লেখা একটি ডাইরি। আন্দাজ করা হচ্ছে কমপক্ষে ১২০ কোটি টাকার স্ক্যাম হয়েছে। অর্পিতা দাবি করেছেন যে তার বাড়ি গুলি “মিনি ব্যাংক” হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
তাঁকে না জানিয়ে পার্থ টাকা রেখেছিল ফ্ল্যাটে, বয়ান বদল অর্পিতার!

ইডিকে অর্পিতা বলেন, ‘টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ায় উদ্ধার হওয়া টাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কর্মীরা এসে ফ্ল্যাটে টাকা রেখে যেত। টাকা রাখছে জানতাম, কত টাকা রাখা হচ্ছে জানতাম না। মাঝে মাঝে ফ্ল্যাটে আসতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ‘সেই ঘরে ঢুকতেন, তখন আমি যেতাম না’। অর্পিতার দাবি তিনি শুধু একা নন, তাঁর মত পার্থ বাবুর আরও এক সঙ্গিনী আছেন। যার বাড়িতেও রয়েছে টাকা। কিন্তু আজ সেই বয়ান বদলে যায় সাংবাদিকদের সামনে। অর্পিতা বলেন, তাঁর অজান্তে রাখা হয়েছিল টাকা। তিনি কিছুই জানতেন না।



