মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আচমকাই যেন থমকে গেল বলিউডের নেপথ্য সুর। দেশের এক নম্বর প্লেব্যাক গায়ক অরিজিৎ সিং ঘোষণা করলেন—আর নতুন কোনও ছবিতে প্লেব্যাক করবেন না তিনি। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে এমন সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এই অবসর? অভিমান, ক্লান্তি, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর কোনও শিল্পীসত্তার রূপান্তর?
গত কয়েক মাসেই একের পর এক জনপ্রিয় গানে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন অরিজিৎ। বাংলা ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-এর ‘ক্ষণে গোরাচাঁদ’ হোক বা হিন্দি ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর ‘গেহরা হুয়া’—সবেতেই তাঁর কণ্ঠ যেন আবেগের নতুন সংজ্ঞা লিখে দিয়েছে। এমন সময়ই এই ঘোষণায় বিস্ময় আরও গভীর হয়েছে।
নিজের সোশাল মিডিয়া পোস্টে অরিজিৎ লিখেছেন,
“নতুন বছরের শুভেচ্ছা। এত বছর শ্রোতা হয়ে আমাকে ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। আমি আনন্দের সঙ্গেই জানাচ্ছি, আর নতুন কোনও কাজ করব না প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে। এই অধ্যায় থেকে আমি সরে আসছি। যাত্রাটা ছিল সত্যিই সুন্দর।”
তবে এখানেই থামেননি তিনি। অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে স্পষ্ট করেছেন, গান থামছে না। তাঁর কথায়, ঈশ্বরের আশীর্বাদে তিনি এখনও একজন শিক্ষার্থী হিসেবেই সঙ্গীত শিখতে চান। কিছু অসমাপ্ত কাজ শেষ করবেন বলেও জানিয়েছেন। অর্থাৎ, প্লেব্যাক থেকে সরে এলেও সৃষ্টিশীলতার দরজা বন্ধ করছেন না তিনি।
এই ঘোষণার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও মন খারাপ অনুরাগীদের। কারণ, প্রেম, বিরহ, বিচ্ছেদ কিংবা নিঃসঙ্গতার অনুভূতিগুলো যেন এক সময় অরিজিতের গলায় বাঁধা পড়েছিল। জেন জ়ি থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী, এমনকি প্রবীণ শ্রোতার মনেও জায়গা করে নিয়েছিল তাঁর গান।
অরিজিতের পথচলা কখনওই মসৃণ ছিল না। ফেম গুরুকুল–এ ষষ্ঠ হওয়া থেকে শুরু করে নানা বিতর্ক—সব পেরিয়েই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সলমন খানের সঙ্গে মতানৈক্য হোক বা মঞ্চে হঠাৎ গাওয়া গান নিয়ে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা—সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকেছেন তাঁর সুর ও সরলতা।
জিয়াগঞ্জের রাস্তায় স্কুটি চালিয়ে ঘোরা, তারকা হয়েও মাটিতে পা রেখে চলা—এই ‘ডাউন টু আর্থ’ মনোভাবই অরিজিতের আলাদা পরিচয়। সম্ভবত সেই স্পষ্টবাদিতাই আজ তাঁকে জীবনের নতুন অধ্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে।
অরিজিত নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডিজিটাল দুনিয়ায় হয়তো তাঁকে নতুন রূপে দেখা যাবে। রুপোলি পর্দায় নায়কের ঠোঁটে তাঁর গান কম শোনা গেলেও, স্বাধীন সৃষ্টির পথে তিনি এগোতে চান। আপাতত জানা যাচ্ছে, সলমনের ‘গালওয়ান’ ছবিতে তাঁর কণ্ঠ শোনা যাবে। পাশাপাশি গুঞ্জন রয়েছে, ‘কিং’ ছবিতে এড শিরানের ‘Sapphire’-এর ভারতীয় সংস্করণেও থাকতে পারে অরিজিতের গলা।
প্লেব্যাক অধ্যায়ের ইতি টানলেও, অরিজিতের সঙ্গীতযাত্রা যে থামছে না—এটাই এখন ভরসা। বাকিটা সময়ই বলবে, এই অবসর আসলে শেষ নয়, নতুন শুরু।



