কেষ্টর চিঠিঃ মোদের গরব মোদের আশা, ‘আয় মরে যাই’! বলছে ‘দুক্ষিত’ বাংলা ভাষা

বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের হাতে লেখা চিঠি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঝড়! বানান ভুল, বিরামচিহ্নহীনতা আর অসংলগ্ন বাক্যে ভরা সেই ক্ষমাপত্র দেখে উঠেছে প্রশ্ন—এই ভাষাতেই কি দিদির কাছে পৌঁছবে ‘দুঃখ’?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে বীরভূমের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল-এর লেখা একটি চিঠি। উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ আধিকারিকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, কিন্তু তার ভাষা আর বানানের গুণে চিঠিটি হয়ে উঠেছে কৌতুকের বিষয়। বাংলা ভাষার এতটা বিকৃতি অনেকেই আগে দেখেননি বলেই মতামত দিয়েছেন ভাষাবিদেরা।

এই চিঠিতে লেখা রয়েছে— “আমি দুক্ষিত। দিদির পুলিশের কাছে একবার কেন ১০০ বার ক্ষমা চাইতে পারি।”
তবে ভুল শুধুমাত্র ‘দুক্ষিত’ বানানেই সীমাবদ্ধ নয়, পুরো চিঠিতে ছড়িয়ে রয়েছে বানান ভুল, অশুদ্ধ বাক্যগঠন ও সম্পূর্ণ অনুপস্থিত বিরামচিহ্ন।

কেষ্টর চিঠিঃ মোদের গরব মোদের আশা, ‘আয় মরে যাই’! বলছে ‘দুক্ষিত’ বাংলা ভাষা

কেষ্টর চিঠিঃ মোদের গরব মোদের আশা, 'আয় মরে যাই'! বলছে ‘দুক্ষিত’ বাংলা ভাষা
কেষ্টর চিঠিঃ মোদের গরব মোদের আশা, ‘আয় মরে যাই’! বলছে ‘দুক্ষিত’ বাংলা ভাষা

সম্প্রতি অনুব্রত মণ্ডলের একটি ফোনালাপের অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি এক পুলিশ আধিকারিককে হুমকি দিচ্ছেন ও গালিগালাজ করছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি সামনে আসতেই চাপে পড়ে তিনি চিঠি লেখেন, যা তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুলিশের উদ্দেশে প্রকাশ করেন।

তবে ভাষাগত গাফিলতির কারণে চিঠিটি ক্ষমা চাওয়ার চেয়ে হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন—”বানান দেখে ক্ষমা তো দূরের কথা, আরও রাগ বাড়বে!”

ভাষার দুরবস্থা: অনুব্রতের চিঠি কি এক প্রতীক? চিঠিতে ‘ঘটিনা’, ‘খায়’, ‘মহুকুমা’, ‘গাল মন্দর’ ইত্যাদি বানান দেখে নেটিজেনরা ক্ষোভ ও বিদ্রুপ উগরে দিয়েছেন।

ভাষাবিদরাও বলছেন, চিঠির ভাষা থেকে স্পষ্ট যে ভাষাচর্চা ও পড়াশোনা অনুব্রতের দৈনন্দিন জীবনে খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। চিঠির শেষে ‘দুক্ষিত’ শব্দটির উপর কলম চালিয়ে ‘দুঃখিত’ লিখলেও বাকিটা থেকে গেছে ভুলেই ভরা।

বানান ভুল: শৈশবের শিক্ষা না, অভ্যাসের ব্যর্থতা?
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এই ধরনের বানান ভুল কি শুধুই অশিক্ষার ফল, নাকি অনভ্যাস ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক? এক ভাষাবিদের কথায়— “শুধু শিক্ষা নয়, পড়াশোনা, চর্চা ও ভাষার প্রতি শ্রদ্ধার অভাবেই এমন ঘটনা ঘটে।”

এই ক্ষমা চিঠিকে অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক চাপের ফল হিসেবে। বিজেপির এক নেতা কটাক্ষ করে বলেছেন— “দিদির ভয়েই এখন বানান ভুলে ক্ষমা চাইছেন!”

তৃণমূল শিবির অবশ্য বলছে—চিঠির ভাষা নয়, মনোভাবটাই আসল। তবে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন—“মনোভাব ঠিক থাকলে, ভাষা এত ভুল হয় কী করে?”

ভুলে ভরা অনুব্রতের চিঠি আপাতদৃষ্টিতে নিছক একটি ক্ষমা প্রার্থনা হলেও, এটি বাংলাভাষা চর্চার দৈন্য এবং রাজনৈতিক চাপে কেমন করে নেতারা নিজের ভাব প্রকাশেও ভুল করেন, তারই জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান রেখেই এখন নেটিজেনদের প্রশ্ন—“ক্ষমা চাইলেন ঠিক আছে, কিন্তু ভাষার কি ক্ষমা নেই?”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন