টানা দেড় বছর পরে বাড়ি ফিরলেন বীরভূমের বাঘ। শুক্রবার তাঁকে জামিন দিয়েছিল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। কিন্তু আইনি কাগজপত্র জমা না পড়ায় তাঁর জেলমুক্তি সম্ভব হয়নি গতকাল। তিহাড় থেকে মুক্তির পর মেয়ে সুকন্যার সঙ্গে সোমবার রাতের বিমানেই কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোরে পৌঁছন কলকাতায়। দমদম বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ সোজা বীরভূমের উদ্দেশে রওনা দেন তৃণমূলের বীরভূম জেলার প্রাক্তন সভাপতি অনুব্রত। সকাল ৯টা নাগাদ সড়কপথে বর্ধমান হয়ে বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়িতে ফেরেন তিনি।
বোলপুর শহরে ঢোকার কয়েক কিলোমিটার আগে থেকেই অনুব্রত মণ্ডলকে স্বাগত জানাতে রাস্তার পাশে ভিড় করেছিলেন অনুব্রতর অনুগামীরা৷ তৃণমূল নেতার গাড়ির উপর পুষ্প বৃষ্টি করেন দলীয় কর্মী সমর্থকরা৷ দেওয়া হয় উলুধ্বনি। মানুষের ভিড়ে বার বার থমকেছে অনুব্রতর গাড়ি। বীরভূমে ফেরার পথে বর্ধমান পার করে একটি জায়গায় কিছুক্ষণের জন্য থামে অনুব্রতর গাড়ি। সেই সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অনুব্রত। শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি বলেন। পায়ে ও কোমরে ব্যথার কথা। তিনি বলেন, “আমি আদালতকে সম্মান করি, আইন মেনে চলি।” সঙ্গে এ কথাও বললেন, “দিদির জন্য আছি, বরাবরই থাকব।”


২০২২ সালের ১১ অগস্ট বোলপুরের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। তার পর থেকে টানা দেড় বছর জেলবন্দি ছিলেন তিনি। গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন কেষ্ট। গ্রেফতারির পর প্রথমে আসানসোল সংশোধনাগারে তাঁকে রাখা হয়েছিল। পরে তিহাড় জেলে নিয়ে যাওয়া হয় কেষ্টকে। ২০২৩ সালের ২১ মার্চ থেকে তিহাড় জেলেই বন্দি ছিলেন তিনি। একই মামলায় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ইডিও তাঁকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতার হন তার মেয়ে সুকন্যাও। তার পর দিল্লির তিহাড় জেলে ঠাঁই হয়েছিল পিতা এবং পুত্রীর।
অনুব্রতর গ্রেফতারির পর মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কেষ্টকে বীরের সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে আনব।” আজ কিছুটা বীরের মতই বীরভূমে ফিরলেন কেষ্ট। উল্লেখ্য বিষয়, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বীরভূম জেলায় প্রশাসনিক কর্মসূচি রয়েছে মঙ্গলবার। দলনেত্রীর সঙ্গে কি মঙ্গলবার সাক্ষাৎ হবে অনুব্রত মণ্ডলের? তা নিয়েও চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। অনুব্রতকে সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তিনি জানান, “শরীর ভাল থাকলে দেখা হবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।”







