নজরবন্দি ব্যুরোঃ খড়্গ হাতে উন্নয়ন দাঁড়িয়ে রইলো, রইলেন না কবি, শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ অনুব্রতর। আগে ‘এ কোন নতুন কবি’ বলেই কটাক্ষ করেছিলেন অনুব্রত মন্ডল আজ বললেন একটা ভালো কবি ছিলেন তিনি। বহুদিন আগে উন্নয়ন এবং কবিতা দুই নিয়ে তীব্র তরজা বেঁধেছিল। যদিও চিরাচরিত ভাবে চুপ ছিলেন কবি। উত্তর দিতেন কলমে। মুখে বলেননি কিছুই। আজ সেই ‘নতুন কবি’ শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুতে বাংলার এক প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমকে বীরভূমের কেষ্টদা জানিয়েছেন, ‘উনি একটা ভালো কবি ছিলেন।’
আরও পড়ুনঃ লিখেছেন রামকে নিয়ে, তবে কি রবি ঠাকুরও অপরাধী তৃনমূলের আমলে? পোস্টে উত্তর চাইছেন দিলীপ
নীরব কবির লেখার পরিবর্তে বছর চারেক আগে মন্তব্য করেছিলেন অনুব্রত। ২০১৮ সালের মে মাসে পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারের সময় অনুব্রত বলেছিলেন, বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে বেরোলে দেখবেন, রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর পর বীরভূমের ৪২টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে ৪১টিতেই মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি বিরোধীরা।
খড়্গ হাতে উন্নয়ন দাঁড়িয়ে ছিল উন্নয়ন! ব্যাখ্যা করে ‘মুক্ত গণতন্ত্র’ শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন, ‘যথার্থ এই বীরভূমি, উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে এসে পেয়েছি শেষ তীরভূমি। দেখ খুলে তোর তিন নয়ন, রাস্তা জুড়ে খড়্গ হাতে দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন’। সেই কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পরেই অনুব্রত মন্তব্য করেছিলেন, ”বড় বড় কথা বলছেন কবি? এ কোন কবি? আমরা তো কবি বলতে জানতাম রবীন্দ্রনাথ-নজরুল। এ কোন নতুন কবি উঠে এসেছেন যে, আমার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছেন!”
তাঁর উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা একেবারেই ভালো লাগেনি কেষ্টদার। এমনকি তিনি এও বলেছিলেন, কবির নাম শঙ্খ রাখাই উচিত হয়নি। শঙ্খ এক পবিত্র জিনিস, সব কাজে লাগে। উনার নাম কোনভাবেই তা রাখা উচিত হয়নি। উল্টে তিনি এও বলেন, ‘যখন অনুব্রত মণ্ডল রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, তখন শঙ্খ ঘোষ কবিতা লেখেন।’
তবে আজ কবির মৃত্যুর পর সংবাদ মাধ্যমের কাছে শোক প্রকাশ করেছেন তিনি। পুরনো বিবাদ ভুলে জানিয়েছেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। বাংলার কবি ছিলেন। ওঁকে শতকোটি প্রণাম জানাই। শঙ্খ ঘোষ একটা ভাল কবি ছিলেন। ওঁর মৃত্যুতে মর্মাহত হবে বাংলা।” আরও বললেন, ”এই মৃত্যু সব মানুষকেই ধাক্কা দেবে। আত্মার শান্তি কামনা করি।” অনুব্রতর এই শোকবার্তা বঙ্গ ভোটের আবহে নতুন দিক খুলে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।



