নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Subhas Chandra Bose) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের আবহে অনন্ত মহারাজের (Anant Maharaj) বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সম্মান পাওয়ার পর প্রকাশ্যে আসা কিছু ঘটনা ও পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে অনন্ত মহারাজের হাতে এই সম্মান বহাল রাখা বঙ্গবিভূষণের মর্যাদা ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরই তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ঋতব্রত। অনন্ত মহারাজকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তাঁর বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাঁরা আন্তরিক ভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা।
অনন্ত মহারাজকে নিয়ে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান ঋতব্রত। তাঁর মন্তব্য, “অনন্ত মহারাজের পাগড়ি খুলে নেওয়া হলে আমি আরও খুশি হব।” একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রশ্নের উত্তর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীই দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের কারণও বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্য ও তার জনগণের প্রতি অনন্ত মহারাজের ‘বিশিষ্ট ও অনুকরণীয় অবদানের স্বীকৃতি’ হিসেবেই তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সম্মান প্রদানের পরবর্তী সময়ে কিছু ঘটনা ও পরিস্থিতি সরকারের নজরে এসেছে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। সরকারের বিবেচনায় সেই ঘটনাগুলি এতটাই গুরুতর যে অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ দেওয়া বা সেই সম্মান তাঁর কাছে বহাল রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সমস্ত তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তাঁদের মতে, অনন্ত মহারাজের হাতে বঙ্গবিভূষণ বহাল থাকলে এই সম্মানের মর্যাদা, উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য অক্ষুণ্ণ থাকে না।
এই যুক্তিতেই ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসে।
বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা, ভারতের স্বাধীনতা এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ (Indian National Army) নিয়ে তাঁর একাধিক মন্তব্যের জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
অনন্ত মহারাজ অবশ্য নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেননি। তাঁর দাবি, তিনি নেতাজিকে অপমান করেননি বা কাউকে গালাগাল করেননি। ইতিহাসে থাকা তথ্যই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ।
এই পরিস্থিতিতে বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের দাবিও জোরালো হচ্ছে। ঋতব্রতের বক্তব্যে সেই দাবিই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে বিরোধী দলনেতার প্রকাশ্য সমর্থন ঘটনাটিকে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে। একদিকে সরকার সম্মান প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে বঙ্গবিভূষণের মর্যাদা ও উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরেছে, অন্যদিকে বিরোধী নেতৃত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।



