ধ্বংসস্তূপ সরতেই একের পর এক ভয়াবহ সত্য সামনে আসছে। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে শনিবার ভোরে ছাইয়ের মধ্যে আরও দু’জনের দেহাংশ উদ্ধারের পর নিখোঁজের সংখ্যার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া দেহাংশের সংখ্যাও মিলল। প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, এই নিয়ে মোট ২৭ জনের দেহাংশ উদ্ধার হল—যা ঘটনায় নিখোঁজ ডায়েরি হওয়া সংখ্যার সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত, শনিবারের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শেষ হতে পারে।
Narendrapur Police Station সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার আরও চারটি দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর আগে পাঠানো দেহাংশ মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৫টি দেহাংশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ভোরে উদ্ধার হওয়া আরও দু’টি দেহাংশ এখনও ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়নি। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন নিখোঁজ বলে পরিবারগুলির তরফে থানায় ডায়েরি করা হয়েছিল।
ভয়াবহ আগুনের পর আনন্দপুরে ভস্মীভূত গুদামের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হতেই দেহের টুকরো একের পর এক বেরিয়ে আসছে। শুক্রবারও ঘটনাস্থল থেকে আরও দু’জনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলিকে ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ও বিকেলে আরও চার জনের দেহাংশ উদ্ধার হয়েছিল। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপও শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে ওই গুদামের ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজার—দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদামের ম্যানেজার ছিলেন মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার ছিলেন রাজা চক্রবর্তী। তাঁরা যে গুদামে কর্মরত ছিলেন, সেটি Wow! Momo সংস্থার। ধৃত দু’জনকে শুক্রবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, উদ্ধারকাজের শেষ পর্যায়ে পৌঁছলেও তদন্তের চাপ বাড়ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ও ডিএনএ পরীক্ষার ফলই এখন ঠিক করবে—এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কীভাবে প্রাণ গেল ২৭ জনের।



