এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে অনামিকা রায়ের নামও। প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি পেয়েছিলেন ববিতা সরকার। লড়াই চালিয়ে তাঁর চাকরি নিজের নামে করেন অনামিকা। হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে এদিন তাঁর চাকরি বাতিল হয়। কী বলছেন তিনি?

আরও পড়ুন: ২৫ হাজারের চাকরি গেলে দেড় লাখ মানুষ সমস্যায় পড়বে, ‘হতে দেব না’- সাফ কথা মমতার
সোমবার (২২ এপ্রিল) কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রাশিদির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রায়দান হয়। ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করা হয়, এরফলে চাকরি বাতিল হয় ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের। শুধু তাই নয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রাপকদের ১২ শতাংশ হারে সুদ সুহ বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই রায়ের পরই ভেঙে পড়েছেন অনামিকা। তিনি জানান, ‘আদালতের রায় মেনে নিতে পারছি না। শুধু অযোগ্যদের বের করতে পারত। ওঁদের জন্য ফের পরীক্ষা দিতে হবে ভাবতে পারছি না। স্বচ্ছভাবেই চাকরি পেয়েছিলাম।’

২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার (Recruitement Scam) তদন্ত করতে গিয়েই নাম উঠে আসে পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর। বাবা-মেয়ে দুজনকেই তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআইয়ের কাছে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ‘উধাও’ হয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। পরবর্তী সময় তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁরা। ববিতা সরকার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে দাবি করেন, অবৈধভাবে নিয়োগ হয়েছে অঙ্কিতার। হাইকোর্টের নির্দেশে সেই চাকরি পান ববিতা। পাশপাশি বেতন বাবদ ১৪ লক্ষ টাকাও পেয়েছিলেন তিনি।
দু হাত ঘুরে চাকরি এসেছিল তাঁর ঝুলিতে, বছর ঘুরতেই আদালতের রায়ে ‘সর্বহারা’ অনামিকা

২০২৩ সালে ববিতার চাকরি নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে যান অনামিকা রায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, আবেদনপত্রে বেশি নম্বর দেখিয়েছিলেন তিনি। এরপর ববিতার চাকরি ও সেই ১৪ লক্ষ টাকা যায় অনামিকার কাছে। এক বছরের মাথায় লড়াই করে পাওয়া চাকরি হারালেন অনামিকা। অনামিকার আক্ষেপ, ‘আদালত যোগ্য অযোগ্য বিচার করতে পারল না। অযোগ্যদের জন্য যোগ্যদের চাকরি হারাতে হল। এই রকম রায় হবে ভাবতে পারিনি। এখন মনে হচ্ছে, আদালতের উপর কি আস্থা রাখা ভুল ছিল? যোগ্যদের কথা কেন ভাবল না হাইকোর্ট?’



