টানা ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ধাক্কা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায়। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি সারা ভারত জুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠন United Forum of Bank Unions (UFBU)। এর জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির শাখায় পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। বহু জায়গায় শাখা খোলা থাকলেও কাজকর্ম কার্যত বন্ধ অথবা সীমিত পরিসরে হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তরফে আগেই গ্রাহকদের সতর্ক করা হয়েছিল যে, ধর্মঘটের কারণে শাখাভিত্তিক পরিষেবায় সমস্যা হতে পারে। নগদ লেনদেন, চেক ক্লিয়ারেন্স, পাসবুক আপডেটের মতো পরিষেবা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর, ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। UPI, নেট ব্যাঙ্কিং ও মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ে কোনও বাধা নেই বলেই জানিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।
এটিএম পরিষেবা নিয়েও আপাতত তেমন সমস্যা নেই বলে খবর। বেশ কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এটিএম পরিষেবা চালু থাকবে, যদিও নগদের রিফিল সংক্রান্ত সমস্যা হলে কোথাও কোথাও সাময়িক অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
ধর্মঘটের মূল প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে। বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির ক্ষেত্রে এই ধর্মঘটের প্রভাব কার্যত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। তাদের শাখা ও পরিষেবা স্বাভাবিক ছন্দেই চলছে।
কেন ডাকা হয়েছে এই ব্যাঙ্ক ধর্মঘট?
UFBU মূলত দেশের প্রথম সারির রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্মীদের একাধিক সংগঠন নিয়ে গঠিত। তাদের প্রধান দাবি—সপ্তাহে পাঁচ দিনের কাজ চালু করা। বর্তমানে ব্যাঙ্কে মাসে চারটি রবিবার এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ছুটি থাকে। কর্মীদের দাবি, প্রতি শনি ও রবিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ রাখতে হবে।
সংগঠনের বক্তব্য, Reserve Bank of India (RBI), LIC, স্টক মার্কেট, GIC এবং একাধিক সরকারি অফিসে সপ্তাহান্তে দু’দিনই ছুটি থাকে। সে ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কেন প্রযোজ্য হবে না—এই প্রশ্ন তুলেছে UFBU।
জানা গিয়েছে, এই দাবিতে একাধিকবার চিফ লেবার কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত ধর্মঘটের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে সংগঠন।
UFBU যেহেতু মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির কর্মী সংগঠন, তাই বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির উপর এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়েনি বা খুব সীমিত।



