আদালতে হাজিরা এড়াতে হাসপাতালে ভর্তি—এই কৌশলও শেষরক্ষা করল না আরজি কর আর্থিক দুর্নীতি মামলার অভিযুক্ত আখতার আলিকে। আলিপুরের সিবিআই আদালত শুক্রবার তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তাঁর গ্রেপ্তার এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা কি না, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আলিপুরের সিবিআই আদালতে মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু আদালতে হাজির হননি আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। তাঁর আইনজীবী জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাওড়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই এ দিন হাজিরা এড়িয়েছেন আখতার। কারণ, আগের দিনই হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।
আদালতে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীও আখতার আলির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। সবদিক বিবেচনা করে আলিপুর দ্বিতীয় সিবিআই কোর্টের বিচারক সুজিত কুমার ঝাঁ তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, আখতার আলির সামনে এখনও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে জামিন চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে পরোয়ানা জারি হওয়ায় গ্রেপ্তারি যে আসন্ন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।


উল্লেখ্য, আরজি কর দুর্নীতি মামলার মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রথম আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলেছিলেন আখতার আলিই। ২০২৩ সালে তিনি ভিজিল্যান্স কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। সে সময় তিনি হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ছিলেন। পরে তাঁর বদলি হয়।
উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ডেপুটি সুপার থাকাকালীন তিনি সম্প্রতি পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা এখনও গৃহীত হয়নি বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, বিভিন্ন টেন্ডারের নামে দুর্নীতি করে আখতার আলি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এমনকি সেই টাকার একটি অংশ তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও জমা পড়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।








