নজরবন্দি ব্যুরোঃ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুক্রবার সকাল ১১ টার মধ্যে সল্টলেকে ইডি (ED) দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট জিজ্ঞাসাবাদও করেছে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে। সূত্রে খবর, অভিষেকের শ্যালিকা মানেকা গম্ভীরকে তলব করা হয়েছে দিল্লিতে ইডি সদর দফতরে। অভিষেকের পর ইডির নজরে মন্ত্রী মলয়। খুব শীঘ্রই তাঁকে তলব করা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যান, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা পেয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইডির সফর দফতরে তলব করা হয়েছে। অর্থাৎ, কয়লা পাচার মামলায় জোড়া তলব ইডির। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মেনকা। তাঁকে দিল্লির পরিবর্তে কলকাতায় তলব করা হোক। সেজন্য আবেদন জানিয়েছে তিনি। ইডি সূত্রে আরও দাবি, খুব শিগগির দিল্লিতে তলব করা হতে পারে রাজ্যের প্রবীণ মন্ত্রী মলয় ঘটককেও। এর আগে মলয় ঘটককে দু’বার দিল্লিতে তলব করেছে ইডি। কিন্তু মলয়বাবু হাজিরা দেননি।

অভিষেক দাবি করেছেন, এবারের ছাত্র সমাবেশে সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙেছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘২১ জুলাই সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড করেছিল। তেমনই ছাত্র পরিষদের এই সমাবেশও নতুন রেকর্ড করল। কুৎসা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠেকানো যাবে না। তার আগেই তৃণমূলের ছাত্র-যুবরা ১০ গোল দেবে।’
এরপর সিবিআই-ইডি তৎপরতা নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারকে খোঁচা মেরে অভিষেক এবং মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত বড় সমাবেশ, লিখে রাখুন আবার কিছু করবে।’ ঠিক তাই হল আজ। এর আগে কয়লা পাচার কাণ্ডে একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে ইডি। পরে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিষেক বলেন, তাঁর পক্ষে বারবার দিল্লিতে এসে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কলকাতার অফিসে তলব করলে তিনি উপস্থিত হতে পারবেন।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই বেআইনি কয়লা পাচার কাণ্ডে জেরার জন্য দিল্লিতেই সবাইকে তলব করা হচ্ছে। যেমন এডিজি সিআইডি জ্ঞানবন্ত সিং সহ আটজন সিনিয়র আইপিএস অফিসারদে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। জ্ঞানবন্ত অবশ্য যাননি। তবে কোটেশ্বর রাও, শ্যাম সিং ইতিমধ্যে ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন। ঠিক একই ভাবে বেআইনি পাচার কাণ্ডের সূত্রে তলব করা হয়েছে অভিষেকের শ্যালিকা মানেকা গম্ভীরকে।
অভিষেকের পর ইডির নজরে মন্ত্রী মলয়, তাঁকেও শীঘ্রই তলব!

অভিষেক একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেও রেখেছিলেন। তাঁর ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি ছিল, কলকাতায় ইডি দফতরে তাঁদের ডাকা হোক। সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের আবেদন মেনে নেন এবং ইডিকে নির্দেশ দেন অভিষেক ও রুজিরাকে কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। সেই মোতাবেক কলকাতায় ইডি দফতরে একবার হাজিরাও দিয়েছেন রুজিরা। এখন দেখার মানেকা গম্ভীর দিল্লিতে ইডি দফতরে হাজিরা দেন না তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।



