দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘন হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আবহেই এবার সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে ভারতের দুই প্রতিবেশী—পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। রবিবার গভীর রাতে পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডিতে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মেরামত করা হয়েছিল ঘাঁটিটি—তার মধ্যেই ফের হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল অঞ্চলে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, পাকিস্তানের লাগাতার আকাশ হামলার পালটা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রবিবার মাঝরাতে আফগান বায়ুসেনা আকাশপথে অভিযান চালিয়ে নূর খান এয়ারবেস-সহ পাক সেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অভিযানের ভিডিও এবং ড্রোন উড়ানের ফুটেজও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছে তালিবান প্রশাসন।

যুদ্ধ ঘোষণা থেকে সরাসরি সংঘর্ষ
গত শুক্রবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান। তার আগে থেকেই সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের পাশাপাশি পাক-আফগান উত্তেজনাও এখন আন্তর্জাতিক নজরে। যদিও হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে দুই দেশের প্রশাসনই এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবু বহু প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমানঘাঁটি?
রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান এয়ারবেস পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বিমান চলাচল, সামরিক লজিস্টিকস এবং নজরদারির ক্ষেত্রে এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
এর আগে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই ঘাঁটির রানওয়ে ও অবকাঠামোর বড় ক্ষতি হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি ওঠে। প্রকাশ্যে আসা স্যাটেলাইট ছবিতে রানওয়েতে বড় গর্ত এবং আশপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। সম্প্রতি মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পরই নতুন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।


পালটা হুঁশিয়ারি আফগানিস্তানের
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তান যদি ভবিষ্যতেও আগ্রাসী পদক্ষেপ চালায়, তবে একইভাবে জবাব দেওয়া হবে। ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি দ্রুত আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ এশিয়ায় একই সঙ্গে একাধিক সংঘাতের আবহ তৈরি হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন নজর—পাকিস্তানের সম্ভাব্য পালটা পদক্ষেপের দিকে।









