নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভবানীপুর উপনির্বাচনের শেষ দিনের প্রচার কে ঘিরে ব্যাপক উত্তপ্ত হল ভবানীপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত যদুবাবুর বাজার এলাকা। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের (Priyanka Tibrewal) সমর্থনে ৮টি ওয়ার্ডে ৮০ জন নেতার প্রচার করার কথা ছিল আজ। সেই মতো এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যান বিজেপি শিবিরের নেতারা। কিন্তু প্রায় প্রত্যেককেই পড়তে হয় বাধার মুখে। বিজেপি নেতাদের ব্যাখ্যা, এর চেয়ে আফগানিস্তান ভাল!
আরও পড়ুনঃ প্রিয়াঙ্কার প্রচারে এসে বিপত্তি, ‘বহিরাগত’ শ্লোগান শুনে বাড়ি ফিরলেন অর্জুন
এদিন, সকালে শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিটে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অর্জুন সিং। ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন কে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান ওঠে। কটাক্ষ করা হয় ‘বহিরাগত’ বলেও। বিক্ষোভের মুখে পড়ে কার্যত প্রচার না করেই এলাকা ছাড়েন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। কার্যত একই অবস্থা হয় দিলিপ ঘোষেরও। যদুবাবুর বাজারে দিলীপ ঘোষকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। আচমকাই ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয়। মাথা ফাটে এক বিজেপি কর্মীর। পরে পুলিশের সহায়তায় এলাকা ছাড়েন দিলীপ ঘোষ।
বিজেপি-র অভিযোগ, ‘মমতার বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য শুনব না!’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কর্মীরা। এক বিজেপি কর্মীকে রাস্তায় ফেলে মারা হয়। এমনকি খোদ দিলীপ ঘোষের সামনেি ৪ জন কে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কার্যত একই অবস্থা হয় বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারেরও। এদিন পটুয়াপাড়ায় প্রচারে বেরোন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
এর চেয়ে আফগানিস্তান ভাল, মমতার পাড়ায় প্রচারে বাধা পেয়ে ব্যাখ্যা সুকান্তর!

বিরক্ত সুকান্ত মজুমদার বলেন, এর চেয়ে আফগানিস্তান ভাল! তাঁর কথায় “দিলীপবাবু যখন প্রচারে গিয়েছেন, তৃণমূল ভয় পেয়েছে। ওরা জয় বাংলা স্লোগান দিক না, আমরা খোল-কর্তাল বাজিয়ে দেব। কিন্তু বিরোধী নেতা বলে এমন আক্রমণ! এটা কেমন সংস্কৃতি! মমতাকে ঘিরে কেউ জয় শ্রীরাম বলেন? অভিষেকের সঙ্গে সঙ্গে দেখা হলে জয় শ্রীরাম বলি আমরা? ভবানীপুরে গুন্ডা, তালিবানি গুন্ডা নামিয়েছে তৃণমূল। হয়ত বাংলাদেশ থেকেও আসতে পারে। এতে যাতে ভয় পেয়ে মানুষ ভোট না দিতে যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। আফগানিস্তান এর চেয়ে ভাল অবস্থায় রয়েছে।”
এদিকে পাল্টা দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র এবং দেবাশিস কুমার। রাসবিহারীর বিধায়ক বলেন, “কে অর্জুন সিং? খায় না মাথায় দেয় কেউ জানে না।” মদন মিত্রর কথায়, “এটা বাঘ নয়, সিংহের গুহা। ওরা ২০০ মাইক লাগিয়েছে, কিন্তু ১০টা কুকুরও জমা হয়নি বক্তব্য শুনতে।”



