ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বেফাঁস মন্তব্য একাধিকবার দলের জন্য অস্বস্তি ডেকে এনেছে। এবার মুর্শিদাবাদের সাংগঠনিক বৈঠকে তাঁর প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ক্যমাক স্ট্রিটে আয়োজিত বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন— দলের নিয়ম ভাঙা চলবে না, প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল সর্বস্তরে সংগঠন মজবুত করতে তৎপর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই জেলার নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। সোমবারের বৈঠক ছিল মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের নেতৃত্বের সঙ্গে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও।


সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রথমে হুমায়ুন কবীরের নানা অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন অভিষেক। এরপরই তিনি স্পষ্ট করে দেন— কোনও অসন্তোষ বা সমস্যা থাকলে তা দলের নির্দিষ্ট কাঠামো মেনে জানাতে হবে, সংবাদমাধ্যম বা প্রকাশ্যে নয়। তাঁর সাফ মন্তব্য— “দলের উপর কেউ নয়, ব্যক্তি নয়, দলই শেষ কথা।”
হুমায়ুন কবীরকে এই সতর্কবার্তার পাশাপাশি, সভায় উপস্থিত অন্য নেতাদেরও সাংগঠনিক নির্দেশ দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। পুজোর আগে প্রতি বুথে কমপক্ষে দুটি করে সভা করার নির্দেশ দেন তিনি।
মুর্শিদাবাদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ভিনরাজ্য ও বিদেশে কর্মরত। সেই বিষয়েও নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন অভিষেক। তিনি বলেন, বাইরে থাকা বাসিন্দারা কোনও সমস্যায় পড়লে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।


রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুন কবীরকে প্রকাশ্যে অভিষেকের এই সতর্কবার্তা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, ছাব্বিশের ভোটের আগে দল শৃঙ্খলা ভাঙার কোনও সুযোগ দিতে রাজি নয়। বিরোধীদের আক্রমণ ঠেকাতে এবং জনসংযোগ শক্তিশালী করতে, তৃণমূল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
হুমায়ুন কবীর অতীতে বেশ কয়েকবার এমন মন্তব্য করেছেন যা রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি করেছে। কখনও বিরোধীদের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মেলানো, কখনও দলীয় নেতাদের সমালোচনা— এসব কারণে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন তিনি। এবার মুর্শিদাবাদের বৈঠকে অভিষেকের কড়া ভাষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
তৃণমূলের অভ্যন্তরে এই বার্তাকে অনেকে ‘আটলান্টিকে’র মতো স্পষ্ট নির্দেশনা হিসেবে দেখছেন, যেখানে অভিষেক এর আগেও শৃঙ্খলা ভাঙার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দল ততই সাংগঠনিক ঐক্য ও জনসংযোগের উপর জোর দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করার ঘটনাটি শুধু একজন বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে দেওয়া বার্তা নয়, বরং গোটা সংগঠনের জন্য একটি সংকেত— দলের শৃঙ্খলা ও নীতি লঙ্ঘন করলে কঠোর পদক্ষেপ অনিবার্য। ছাব্বিশের আগে এই বার্তা কার্যকর হলে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হতে পারে।







