লোকসভায় ট্যাক্স বিতর্ক থামার নাম নেই। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ‘ভুল তথ্য’ অভিযোগের পর এবার তালিকা ধরে ধরে জিএসটির হিসাব তুলে ধরে পাল্টা আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কাগজে-কলমে করমুক্ত অনেক পণ্য বাস্তবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, আর যেগুলো কিনতেই হয়, সেগুলোর উপরেই চাপানো হয়েছে জিএসটির বোঝা।
গত মঙ্গলবার লোকসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত করের চাপ নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছিলেন। কিন্তু বুধবার জবাবি ভাষণে নির্মলা সীতারামন জানান, দুধ, শিক্ষা বা ধূপকাঠির মতো পণ্যে জিএসটি নেই এবং অভিষেকের বক্তব্য ‘বিকৃত’।


এর পাল্টা বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি লেখেন, তাজা তরল দুধে জিএসটি না থাকলেও বহু পরিবার গুঁড়ো দুধ কিনতে বাধ্য হয়, আর সেই গুঁড়ো দুধে ৫ শতাংশ কর রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “যা কিনতে পারেন না, তাতে শূন্য কর—আর যা কিনতে বাধ্য হন, তাতে ৫ শতাংশ জিএসটি।”
শিক্ষা ক্ষেত্রেও একই যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। অভিষেকের দাবি, পাঠ্যবই করমুক্ত হলেও গ্রাফ পেপার, ল্যাবরেটরি নোটবই বা ক্রেয়নের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসে ১২ শতাংশ জিএসটি দিতে হয়।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও একই ছবি তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর মতে, চিকিৎসা পরিষেবায় জিএসটি না থাকলেও অক্সিজেন সিলিন্ডার, ইনসুলিন বা অস্ত্রোপচারের অ্যানাস্থেশিয়ার মতো প্রয়োজনীয় জিনিসে করের বোঝা রয়েছে।


শেষকৃত্যের প্রসঙ্গেও পাল্টা মন্তব্য করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ধূপকাঠিতে ৫ শতাংশ জিএসটি রয়েছে, ফলে শোকপালনেও খরচের চাপ থেকে মুক্তি নেই।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে একটি তালিকাও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—
-
দুধের গুঁড়ো: ৫% জিএসটি
-
শিশুর ন্যাপকিন: ১৮%
-
পেন্সিল, ক্রেয়ন: ১২%
-
বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী: ১২%
-
ব্রডব্যান্ড পরিষেবা: ১৮%
-
ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী: ৫%
-
ধূপকাঠি: ৫%
এছাড়া পেট্রল ও ডিজেলে লিটার প্রতি যথাক্রমে ১৯.৯ টাকা এবং ১৫.৮ টাকা কর নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
অভিষেকের বক্তব্য, জিএসটি আইনের খাতায়-কলমের হিসাব আর দরিদ্র মানুষের বাজারের বিলের বাস্তবতার মধ্যে ফারাক রয়েছে। সেই ফারাক না বোঝা পর্যন্ত ‘দুই ভারতের’ বাস্তবতা বদলাবে না বলেই তাঁর মন্তব্য।









