অভিষেককে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যে রাশ, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী নির্দেশ আদালতের

ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে শুভেন্দু অধিকারীকে—এই মর্মে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করল আলিপুর আদালত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে শুভেন্দু অধিকারীকে—এই মর্মে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করল আলিপুর আদালত।
লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ঠিক পরেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর একাধিক মন্তব্য ঘিরে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। এরপর আদালতের তরফে জানানো হয়, আগামী ১৯ অগস্ট পর্যন্ত অভিষেককে নিয়ে কোনও ধরনের মানহানিকর মন্তব্য করা যাবে না।

আদালত আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীকে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে—কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না।

এই মামলায় কী অভিযোগ করেছেন অভিষেক?
আবেদনকারীর তরফে আদালতে বলা হয়, গত ২৬ জুন একটি সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিহিত করেন। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সন্ত্রাসের প্রসার, অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত থাকা এবং প্রকল্প দুর্নীতির মতো অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু।

অভিষেকের দাবি, এসব ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানিমূলক মন্তব্য।
তিনি আদালতকে জানান, শুভেন্দুর মন্তব্য সংবাদমাধ্যম এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তারই প্রমাণ হিসেবে ২৬ জুনের সাংবাদিক বৈঠকের ভিডিও সম্বলিত পেনড্রাইভ আদালতে জমা দেন অভিষেক।

আদালতের মন্তব্য ও অন্তর্বর্তী নির্দেশ
আলিপুর আদালতের বিচারক সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে মনে করেন, অভিষেকের সম্মানহানি হয়েছে—এমন অভিযোগ অমূলক নয়। সেই কারণেই আদালত অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং শুভেন্দুকে সময় বেঁধে দিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে।

শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া
এই মামলার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। রাজনৈতিক মহল বলছে, অভিষেকের দলনেতা হওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন মামলা এবং তার রায়ে শুভেন্দুর ওপর নিষেধাজ্ঞা এক নতুন রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করল বিজেপির জন্য।

অভিষেক তাঁর ভাবমূর্তি রক্ষায় আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছেন। রাজনৈতিক সংঘাত যে আদালতের রাস্তায়ও পৌঁছতে পারে, তা আবার প্রমাণ করল এই মামলা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত