ভোটমুখী বাংলায় ফের উত্তেজনার আবহ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্কের ঝড়। বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) ঘোষণার পরই সরব তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দিলেন— “একজন যোগ্য ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ গেলে বাংলার ক্ষমতা দেখবে দিল্লি।”
তৃণমূলের দাবি, বাংলায় SIR ঘোষণা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একইসঙ্গে অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, অসমে কেন হচ্ছে না SIR, যখন ওই রাজ্যেও আগামী বছর নির্বাচন হওয়ার কথা?


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি অভিযোগ, “এটা কাকতালীয় নয়, পরিকল্পিত পদক্ষেপ।” তিনি বলেন, “বাংলার পাশাপাশি তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি এবং অসমেও ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন। কিন্তু খুব কৌশলে অসমকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ।”
অসম প্রসঙ্গ ঘিরে তৃণমূলের তোপ
অভিষেক আরও বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে একাধিক রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র বাংলায় SIR হচ্ছে। বিজেপি নেতারা বারবার বলেন, বাংলায় নাকি রোহিঙ্গারা ঢুকছে। অথচ মায়ানমারের সঙ্গে বাংলার কোনও সীমান্তই নেই। মায়ানমারের সীমান্ত রয়েছে মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশে— তবুও সেখানে SIR হচ্ছে না।”
তাঁর দাবি, এর আসল লক্ষ্য “বাংলাকে অপমান করা এবং ভোটারদের মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া।” তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে কাজ করছে।


সরাসরি চ্যালেঞ্জ দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিষেকের হুঁশিয়ারি, “একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলেই, বাংলা থেকে এক লক্ষ মানুষ গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাও করবে।”
তিনি আরও বলেন, “২০০২ সালে ভোটার তালিকার সংশোধন হয়েছিল দুই বছর ধরে। এবার ভোটের মুখে সেই কাজ মাত্র দুই মাসে কীভাবে সম্ভব?”
তৃণমূল সূত্রে খবর, দল ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে সংগঠনকে সতর্ক করেছে। প্রতিটি জেলায় ভোটার তালিকার খসড়া পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের লক্ষ্য, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না পড়ে।
অভিষেকের মন্তব্যে রাজনৈতিক তরঙ্গ
তৃণমূলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। বিজেপির একাংশ অবশ্য দাবি করেছে, তৃণমূল আগাম ভয় পাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এমন বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি স্পষ্ট—
“বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে, গণআন্দোলনে নামবে তৃণমূল।”







