ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন (SIR) ইস্যুতে ধর্মতলায় টানা ধরনায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আন্দোলনের চতুর্থ দিনে দলনেত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানালেন, ভোটাধিকার বঞ্চিতদের অধিকার ফেরানো না পর্যন্ত তৃণমূলের আন্দোলন চলবে। তবে একই সঙ্গে মমতার স্বাস্থ্যের কথা ভেবে তাঁকে ধরনা তুলে নেওয়ার অনুরোধও করেন অভিষেক।
ধর্নামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, “আমাদের লড়াই চলবে যতদিন না নির্বাচন কমিশন এই ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছে।” তবে দলনেত্রীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “আপনি রাস্তায় থাকতে চান, মানুষের জন্য লড়াই করতে চান। কিন্তু রাজ্যের মানুষের স্বার্থে আপনাকে সুস্থ থাকতে হবে। শরীর খারাপ করবেন না।”

তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠন রয়েছে, তারাই আন্দোলনের দায়িত্ব সামলে নেবে। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের ছাত্র-যুব আছে। তারা এই লড়াই বুঝে নেবে।”
অভিষেকের এই বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ধর্মতলার ধরনামঞ্চে জমায়েতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুব সংগঠনকে। দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সকাল ১০টার মধ্যে উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের বক্তব্য, SIR প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগের বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন। দল মনে করছে, এটি শুধু ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই নয়, বরং বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম।


রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে বহুবার জনস্বার্থে পথে নেমেছেন এবং বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে তিনি বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও। সেই কারণে তাঁর স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ।
এখন দেখার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনুরোধের পর ধরনা কর্মসূচি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।








