তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি উদ্বোধন করার সময় দলীয় সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন। অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, দলে সাংগঠনিক রদবদল হবেই এবং এটি নির্ভর করবে লোকসভা নির্বাচনে দলের ফলের ওপর।
ভোটের ফলের ওপর নির্ভরশীল সাংগঠনিক রদবদল


অভিষেক বলেন, “সাংগঠনিক রদবদল হবেই। যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের চিন্তা করার কিছু নেই। গাছের পরিচয় তার ফলে। আমি কত দক্ষ বা অভিজ্ঞ, তা ভোটের ফলই প্রমাণ করবে।” তিনি আরও জানান, দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত তাঁর হাতেই থাকবে।
অভিষেক জানান, ইতিমধ্যেই দলের মধ্যে কিছু প্রস্তাব মমতার কাছে পাঠানো হয়েছে, এবং তিনি দলনেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। এদিকে, ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে অভিষেক আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, স্থানীয় নির্বাচনগুলোর ফলাফল অনুযায়ী কিছু পুরসভায় সাংগঠনিক পরিবর্তন হবে।
দলীয় বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা দিলেন অভিষেক


বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাজ দলের ঐক্য রক্ষা করা এবং দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করা। অভিষেক বলেন, “আমার কাজ দলে দলে ঢুকে জোড়াফুল ফোটানো। আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।”
আরজি কর হাসপাতাল প্রসঙ্গে অভিষেকের বক্তব্য
ডায়মন্ড হারবারে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনাও উঠে আসে। অভিষেক বলেন, “বিরোধীরা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চক্রান্ত করেছেন, কিন্তু এখন কেউ সেই প্রসঙ্গ তুলছে না।” তিনি দাবি করেন, কলকাতা পুলিশ অভিযুক্তকে ধরেছিল, এবং সিবিআইয়ের মাধ্যমে আরও তদন্ত হওয়া উচিত।
বিজেপির সমালোচনা এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য
বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি ঢুকিয়ে রাজ্যকে অশান্ত করতে চাইছে বিজেপি। মণিপুরে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন তিনি।” পাশাপাশি, আবাস যোজনার প্রেক্ষিতে মোদী সরকারের সমালোচনা করেন অভিষেক এবং বলেন, “প্রকল্পের টাকা রাজ্যকে দেওয়া হয়নি, তাই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।”
সেবাশ্রয় কর্মসূচির প্রসঙ্গে অভিষেকের ঘোষণা
অভিষেক জানিয়ে দেন, আগামী ৭৫ দিন ধরে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিটি বিধানসভায় সেবাশ্রয় কর্মসূচি চলবে। তিনি জানান, ৬-৭টি বুথে একটি করে স্বাস্থ্য শিবির থাকবে, যা স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে আগের সব উদাহরণকে ছাপিয়ে যাবে।







