নজরবন্দি ব্যুরোঃ হলদিয়ার জনসভা থেকে বিচারব্যবস্থা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার শ্যামনগরের মঞ্চ থেকে সেই মন্তব্যের ব্যাখা দিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে সরাসরি রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে বললেন, আমি বিচারব্যবস্থার এক শতাংশ নিয়ে যদি বলি, তার উত্তর দিচ্ছেন রাজ্যপাল। তার মানে ঠিক জায়গায় গিয়ে ঢিলটা পড়েছে। মৌচাকে ঢিল পড়েছে। বাকি আর আমি কিছু বলব না।
আরও পড়ুনঃ ৩ জুন প্রকাশিত হবে মাধ্যমিকের ফল, কোন ওয়েব সাইটে জানা যাবে রেজাল্ট?


এদিন নিজের মন্তব্যের ব্যাখা দিয়ে অভিষেক বলেন, বিচারব্যবস্থা নিয়ে একটা মন্তব্য করেছিলাম বলে মহামান্য রাজ্যপাল আমাকে বলেছেন, আমি নাকি সীমারেখা অতিক্রম করেছি। সীমারেখা কে অতিক্রম করছে? আমি কী বলেছি? বিচারব্যবস্থায় ৯৯ শতাংশ লোক খুব ভাল। ১ শতাংশ লোক কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক বা যাঁরা সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার ভূমিকায় রয়েছে তাঁদের কথা শুনে কিছু লোককে নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার অধিকার রয়েছে, আমি কোনও বিচারের সমালোচনা করতেই পারি। যদি কোনও বিচারে কেউ বলে মার্ডার কেসে তদন্ত হবে না, সেটা ঠিক না ভুল? যদি বলে ভবিষ্যতে কোনও এফআইআর হবে না, এটা ঠিক না ভুল? আমি জনতার দরবারে জানতে চাই? তা হলে সীমারেখা কে অতিক্রম করছে?

উল্লেখ্য, হলদিয়ার সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমার বলতে লজ্জা লাগে। কিন্তু বিচারব্যবস্থায় এক শতাংশ এমন আছেন, তল্পি বাহকের কাজ করছেন। কিছু হলেই সিবিআই দিয়ে দিচ্ছেন। আপনার যদি মনে হয়, এই সত্যি কথা বলার জন্য ব্যবস্থা নেবেন, ক্যামেরার সামনে দু’হাজার বার এই কথা বলব। অভিষেক আরও বলেন, খুনের মামলার তদন্ত আটকে দিচ্ছে। শুনেছেন কোনও দিন! আদালত চাইলে নিরাপত্তা দিতে পারে। আদালতের অধিকার আছে। কিন্তু খুনের মামলার তদন্ত স্থগিত করে দিতে পারেন না আপনি। অভিষেকের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়।



রবিবার সকালে শিলিগুড়িতে নেমে অভিষেকের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তিনি বলেন, প্রকাশ্য জনসভা থেকে এক জন সাংসদ এক জন বিচারপতিকে আক্রমণ করেছেন। এসএসসি দুর্নীতি মামলায় যে বিচারপতি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে। সাংসদের এ হেন মন্তব্য নিন্দনীয়। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সাংসদ হিসেবে নিজের সীমা অতিক্রম করেছেন উনি। রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়।
ঠিক জায়গায় গিয়ে ঢিলটা পড়েছে, অভিষেকের নিশানায় কে?

পাল্টা ট্যুইট করে অভিষেকের মন্তব্য, আমি সব সময় সত্যি বলতে পছন্দ করি। কলকাতা হাইকোর্টের ১ শতাংশ কিভাবে কেন্দ্রের সঙ্গে কয়েকজনকে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজ করছে গতকাল আমি সেটাই বলতে চেয়েছিলাম। মানুষ দেখছে। তাঁরা জানে কে আসলে লাল সতর্কতা পার করছে। এরপরেই অভিষেকের বিরুদ্ধে ৬ জনের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদীকে অনুরোধ করেন রাজ্যপাল। সব মিলিয়ে অভিষেক বনাম রাজ্যপালের সংঘাতকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।







