বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও তীব্র হয়েছে নন্দীগ্রামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়ার জল্পনা। গত কয়েক দিনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও উসকে উঠেছে। শুধু বিজেপি নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও এই নিয়ে ফিসফাস শুরু হয়েছে। অবশেষে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল আরও বাড়ল।
জল্পনার নেপথ্যে আছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে তথ্য আছে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নন্দীগ্রাম আসনে দাঁড়াতে পারেন। তাঁর কথায়, অভিষেকের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রবল আগ্রহ রয়েছে। তাই নন্দীগ্রাম সিটকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক প্রস্তুতি চলছে। এমনকি ওই এলাকায় পুলিশি বদলিও সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী হবেন অভিষেক? জল্পনার মাঝেই সরাসরি উত্তর দিলেন তিনি
অভিষেকের জবাবেই বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ
সুকান্তের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখনই অভিষেক এদিন পরিষ্কার বলেন, দল তাঁকে যেখানেই দাঁড়াতে বলবে, তিনি দাঁড়াবেন। তাঁর ভাষায়, “দল যদি নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে বলে, দাঁড়াব। দার্জিলিং বললেও দাঁড়াব। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, সেটা দলের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
অভিষেকের এই অবস্থান তৃণমূলের নীতি ও শৃঙ্খলাকে সামনে আনলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর বক্তব্যে নন্দীগ্রামের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে নন্দীগ্রামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা আরও বেড়ে গেল।
মমতা সরকারের ‘রিপোর্ট কার্ড’-এর কথা স্মরণ করালেন
অভিষেক এদিন আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ১৪ বছরের উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ মানুষের সামনে তুলে ধরবে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে মেট্রো বা রেলের বড় প্রকল্প এগোতো না। আমরা কাজ করেছি, সেই কাজই রিপোর্ট কার্ডে থাকবে।”
এছাড়াও তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্কের টানাপড়েনের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের সহায়তা ছাড়াই রাজ্য সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বিজেপি মানুষের পাশে নেই, অভিযোগ অভিষেকের
বর্তমান SIR (Special Intensive Revision) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও কড়া ভাষায় বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনও বিজেপি নেতাকে মানুষের পাশে দেখা যাচ্ছে কি না।
তাঁর কথায়, “বিজেপি বাংলার মানুষকে সাহায্য করতে নেই। তারা শুধু টাইট দিতে এসেছে। তৃণমূলকে শিক্ষা দিতে গিয়ে মানুষকেই শিক্ষা দিতে চাইছে।”
এই মন্তব্য রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও ধারালো করেছে।
নন্দীগ্রাম—রাজনৈতিক আবেগের কেন্দ্র
নন্দীগ্রাম বাংলার রাজনীতিতে প্রতীকী শক্তির জায়গা দখল করে আছে। ২০২১ নব্বইহাজার ভোটের ব্যবধানের আলোচনাই হোক বা মমতা বনাম শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সংঘর্ষ—নন্দীগ্রাম সবসময়ই নজরে থাকে। সেই আসনে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হন, তবে তা নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে।
এখন প্রশ্ন একটাই—তৃণমূলের পরবর্তী তালিকায় নন্দীগ্রামের পাশে কোন নাম লেখা থাকবে?
এই উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।



