আনন্দবাজার নয়, নবান্নে অভিষেকের ছায়া, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মন্ত্রী আমলারা!

‘‘আমি টাকা তোলার মাস্টার চাই না। আমি জনসেবক চাই। যারা জনসেবা করতে পারবে, তারাই আগামী দিনে টিকিট পাবে। বাকিদের ছুড়ে ফেলে দেব।’’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কাজ করলে পদে থাক, নাহলে কেটে পড়ো। নবান্নে অভিষেকের ছায়া দেখে কার্যত সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মন্ত্রী আমলারা। সরকারের কাজ নিয়ে তৃণমূলের সেনাপতির অসন্তোষের কথা বার বার শোনা গিয়েছে প্রকাশ্যে। সোমবার নবান্নের বৈঠকে আমলা, পুলিশ, মন্ত্রী, কাউন্সিলর, বিধায়কদের যে ভাবে মুখ্যমন্ত্রী তুলোধনা করেছেন এবং প্রশাসনের বড় অংশকে যে ভাবে পরীক্ষায় বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা দেখে অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনিক কাজে এবার অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিট মডেল চালু হয়ে গেল

আরও পড়ুন: 2026-এর লক্ষ্যে কাজ শুরু, BJP রাজ্য সভাপতি হচ্ছেন দিলীপ ঘোষ

গতকাল একেবারে চাঁচাছোলা ভাষাতেই পুর পরিষেবা নিয়ে দলীয় নেতা-সহ আমলা ও পুলিশ প্রশাসনকে তুলোধনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নবান্নের সভাঘরে পুরমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের সামনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমাদের টাকা তোলার লোকের দরকার নেই।’ পরিষেবা নিয়ে নাগরিকদের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়েই এদিন নবান্নের সভাঘরে কার্যত রণং দেহি মূর্তি ধরেন মুখ্যমন্ত্রী

আনন্দবাজার নয় সরকারের কাজ, নবান্নে অভিষেকের ছায়া, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন আমলারা

সোমবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পুর এলাকায় দুর্নীতি, তোলাবাজি, বেআইনি নির্মাণ, শহরগুলির নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা, অপরিচ্ছন্নতা, জমিদখল, বেআইনি পার্কিং থেকে টাকা তোলা ইত্যাদি নিশানা করেছেন। সুজিত বসুর মত হেভিওয়েট মন্ত্রীকেও ছাড়েননি মমতা। পাশাপশি, ছাড় পায়নি বিদ্যুৎ দফতর, নগরোন্নয়ন দফতর, পূর্ত দফতরের মত একাধিক মন্ত্রক।

সম্মান বাঁচাতে অনেকের নাম মুখে আনেননি মুখ্যমন্ত্রী, কিন্তু ইঙ্গিতে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন কোন কোন মন্ত্রী আমলা বিধায়কদের কথা বলছেন তিনি। অনেকের মতে, অভিষেক যে মডেলে সংগঠন পরিচালনা করেন, অনেকদিন ধরেই তিনি চাইছিলেন সরকারেও সেই প্রক্রিয়া শুরু হোক। কিন্তু তা হচ্ছিল না। সোমবার তার সূচনা হয়ে গেল।

নবান্নে অভিষেকের ছায়া, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মন্ত্রী আমলারা!

আনন্দবাজার নয় সরকারের কাজ, নবান্নে অভিষেকের ছায়া, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন আমলারা

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা ভোটে গ্রামাঞ্চলে তৃণমূলের দাপট অটুট থাকলেও শহরাঞ্চলে সমর্থনের ভিত নড়েছে। যা ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে শাসকদলের জন্য অশুভ সংকেত বহন করছে। ফলে ভোট মিটতেই প্রশাসনিক স্তরের যাবতীয় ক্ষত মেরামতে উদ্যোগী হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। সোমবারের বৈঠকে আমলাদেরও সতর্ক করেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “অফিসারেরা ভাবেন দু’বছর কাজ করে চলে যাবেন। ফলে তাঁর কোনও দায় নেই। এ বার তা হবে না। তাঁদেরও ভিজিল্যান্সের মধ্যে কাজ করতে হবে। জবাবদিহি করতে হবে।”

গতকালের বৈঠকে উঠে আসে কলকাতা, হাওড়ার রাস্তার দুরবস্থা। যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “এ বার কি আমাকে রাস্তা ঝাঁট দিতে বেরোতে হবে? শুধু উপর দেখলে হবে? নীচে দেখতে হবে না? রাস্তা দেখে না, আলো দেখে না! শুধু ট্যাক্স বাড়ানো আর লোক বসাচ্ছে! এ ছাড়া প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না!” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা আমলা মন্ত্রীদের ছাড় দিতেন, তাঁদের ভুল কাজ সংশোধন করতেন নিজে। কিন্তু গতকালের বোইঠক প্রমাণ করল এবার দিন বদলাতে চলেছে। এবার যেন নবান্নে অভিষেকের ছায়া, কার্যত সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মন্ত্রী আমলারা!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন