ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে আর হেনস্থার শিকার হতে হবে না—পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য মালদার মঞ্চ থেকে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। পুরাতন মালদা থানার মঙ্গলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের জলঙ্গীতে আয়োজিত সভা থেকে তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দেন, বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের জন্য আর বাইরে যেতে বাধ্য করা হবে না। একই সঙ্গে বিজেপি ও ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির গোপন ডিল’ নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
বৃহস্পতিবার মালদায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বিশেষ সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয় তৃণমূল। মঞ্চে উপস্থিত শ্রমিকদের মুখ থেকেই তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন অভিষেক এবং সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক বিতর্ক প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দেন তিনি। প্রতিবেশী জেলা মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে নাম না করে ভরতপুরের বিধায়ক Humayun Kabir-কে নিশানা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “যিনি ২০১৯ সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন, তিনিই আজ ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছেন। মানুষকে বোকা বানিয়ে মাঝখান থেকে টাকা তোলাই এদের লক্ষ্য। এক পয়সাও দেবেন না, গরিব মানুষকে সাহায্য করুন—কোরানেও সেটাই লেখা আছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জঙ্গিপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণার পর তাঁকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয়। এই ইস্যুতে তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, সবটাই গেরুয়া শিবিরের প্ররোচনায়। বিজেপি যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দেয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদার মঞ্চ থেকে অভিষেকের এই বার্তা আসন্ন নির্বাচনের আগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সভা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘এক ডাকে অভিষেক’ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করেন তৃণমূল সাংসদ। এই পরিষেবা ইতিমধ্যেই তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র Diamond Harbour-এ চালু রয়েছে। অভিষেকের আশ্বাস, “মালদাও আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ। কোনও পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হলে আইনি সাহায্য দেওয়া হবে।”


পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে বিজেপিকেও সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সাংসদ Khagen Murmu এবং Sukanta Majumdar নিজেদের এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াননি। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, “রাতে অসুস্থ হলে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকার সময় কি চালকের ধর্ম জিজ্ঞাসা করা হয়? কৃষক, শ্রমিক, ফুল বিক্রেতা—কারও ধর্ম দেখে কি কাজ হয়? বিজেপি বিভাজন চায়, তৃণমূল সম্প্রীতির প্রতীক।”
সভা শেষের আগে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মালদায় বড় জনসভার প্রতিশ্রুতি দেন অভিষেক। যে মাঠে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi সভা করবেন, সেখানেই পাল্টা জনসভা করার বার্তা দিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দেন তিনি।










