ধূপগুড়ির রাজনৈতিক সমীকরণে বারবার বদল— আর সেই অঙ্কই এবার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে। উপনির্বাচনে জয় পেলেও লোকসভায় পিছিয়ে পড়ার পর, আসন্ন বিধানসভা ভোটে ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে জনসভা থেকে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে ভোটের বার্তা দিলেন তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ধূপগুড়ি কেন্দ্রটি দখল করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রায় ৪ হাজার ভোটে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার ছবিটা বদলে যায়— প্রায় ৬,৩৭২ ভোটে এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী জয়ন্তকুমার রায়।
এই ওঠানামার প্রেক্ষিতেই ধূপগুড়ির ফণীর মাঠে সভা করে অভিষেক বলেন, “বাংলায় হেরে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে। যদি এখানে আবার বিজেপি জেতে, তাহলে সেই মডেলকেই সমর্থন করা হবে।” তাঁর দাবি, তৃণমূল শুধু জেতা এলাকায় নয়, হারা এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন করেছে।
জলপাইগুড়ি জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে তিনটিতে— জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ ও মাল— ইতিমধ্যেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে তৃণমূল। ধূপগুড়িতে জয়ের লক্ষ্যে উন্নয়নকেই হাতিয়ার করেছেন অভিষেক। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তুলে ধরেন রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান— কলেজ, বানারহাটে হিন্দি কলেজ, কৃষক বাজার, নতুন দমকল কেন্দ্র এবং মহকুমা হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালের উপনির্বাচনের আগে ধূপগুড়িকে আলাদা মহকুমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অভিষেক। জয় পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়। তবে লোকসভায় পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে তিনি দায় দেন “ভুল তথ্য প্রচার” এবং ভোটারদের বিভ্রান্তিকে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনা— এই সব প্রকল্পের টাকা বন্ধ রেখে বিজেপি কীসের ভিত্তিতে ভোট চাইবে?” পাশাপাশি SIR সংক্রান্ত হয়রানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই বিষয়গুলিও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ধূপগুড়িকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই যে এ বার আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। উপনির্বাচনের জয় ধরে রাখা নয়— বরং লোকসভায় হারানো জমি ফেরত পাওয়াই এখন তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য।







