ভারতের আধার পরিকাঠামো আরও সুরক্ষিত ও নির্ভুল করতে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI) এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে। সারা দেশে মৃত ব্যক্তিদের ডেটা যাচাই করে ২ কোটি আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আধার ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ রাখা এবং মৃত নাগরিকদের পরিচয় অপব্যবহার রোধ করতেই এই ব্যাপক ডেটা-শুদ্ধিকরণ অভিযান চালানো হয়েছে।
এই আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় অভিযান শুরু হয় ২০২৪ সালে এবং ২০২৫ সালে তা আরও জোরদার হয়। জুলাই মাসে যেখানে নিষ্ক্রিয় আধারের সংখ্যা ছিল ১.১৭ কোটি, সেপ্টেম্বরের শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১.৪ কোটিতে। বছরের শেষে UIDAI-এর লক্ষ্য ছিল ২ কোটির বেশি মৃত নাগরিকের আধার বাতিল করা—যা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।


২ কোটি আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করল UIDAI, আপনারটা ঠিক আছে তো?
UIDAI জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে মৃত ব্যক্তিদের আধার সক্রিয় থাকা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI) এবং রাজ্য সরকারের সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাই বিভিন্ন উৎস থেকে মৃত্যু-নিবন্ধনের তথ্য মিলিয়ে বহুস্তরীয় যাচাইয়ের পরই সংশ্লিষ্ট আধার নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
UIDAI জানায়, কোনও আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় করার আগে সরকারি মৃত্যু-নিবন্ধন রেকর্ড, রাজ্য সরকারের সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম, এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ডেটা মিলিয়ে দেখা হয়।
প্রতিটি ধাপ নিশ্চিত হওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে আধার বাতিল করা হয়।

মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। myAadhaar পোর্টালে লগ-ইন করে মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর এবং সরকারি মৃত্যু-নিবন্ধন নম্বর জমা দিলেই UIDAI তথ্য যাচাই করে আধার নিষ্ক্রিয় করবে। প্রশাসনের পরামর্শ, মৃত্যু সনদ হাতে পাওয়ার পর যত দ্রুত এই রিপোর্টিং করা যায়, তত দ্রুত পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকি কমে।


তবে দেশের বহু রাজ্যে মৃত্যু-নিবন্ধন ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয়। ফলে ডেটার অসঙ্গতি বা clerical error-এর কারণে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ভুল করে জীবিত ব্যক্তির আধারও নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমে আরও আধুনিকীকরণ জরুরি।
UIDAI জানিয়েছে, ভুল করে কোনও আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় হলে তা পুনরায় সক্রিয় করার জন্য reactivation process চালু আছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রয়োজনীয় alive proof জমা দিয়ে নির্দিষ্ট ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করলেই আধার আবার সক্রিয় হবে। প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন UIDAI ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে।
মৃত নাগরিকদের আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ—তার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। সক্রিয় মৃত আধার ব্যবহার করে ভুয়ো পরিচয় তৈরি করা, সরকারি সুবিধা জালিয়াতি, বেআইনি ব্যাঙ্কিং লেনদেন, এমনকি সিম কার্ড জালিয়াতির আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। ফলে এই ডেটা-শুদ্ধিকরণ আধার পরিকাঠামোকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
UIDAI আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মৃত্যু-নিবন্ধন ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আধার সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করে ডাটাবেস আপডেট রাখা হবে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ আধার ব্যবস্থাকে আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে।








