সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের পরেই প্রাথমিকের প্যানেল প্রকাশ করে পর্ষদ। মোট ৯,৫৩৩ জনের নাম রয়েছে এই প্যানেলে। বৃহস্পতিবার পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল জানান, এই চাকরিপ্রার্থীরা আগামী সাত দিনের মধ্যে নিয়োগপত্র হাতে পাবেন। এদিকে, আবার প্যানেল প্রকাশের পরদিনই কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হল একটি মামলা। সেই মামলা গ্রহণও করলেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। শুনানি শুক্রবার।
আরও পড়ুন: সাত দিনের মধ্যে নিয়োগ পাবেন প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক, প্রাথমিকের মেধাতালিকা প্রকাশ পর্ষদের
এবার যারা মামলা করলেন কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) তাঁদের দাবি কী? মামলাটি করেছেন সুমন্ত কোলে-সহ ১০ জন চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালের টেটের বিজ্ঞপ্তিতে প্রথমে বলা হয়েছিল, যাদের বিএড ও ডিএলএড এই দুই ডিগ্রির মধ্যে যে কোনও একটা রয়েছে তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু, পরে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, প্রাথমিকের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডিএলএড প্রয়োজন।

এখন সুমন্ত কোলে-সহ ১০ জন চাকরিপ্রার্থীর বক্তব্য, তাঁদের বিএড ও ডিএলএড এই দুই ডিগ্রিই ছিল। কিন্তু, প্রথম বিজ্ঞপ্তি দেখে তাঁরা বিএড-এর কথাই ফর্মে উল্লেখ করেন। তাছাড়া তাঁদের বিএড-এ বেশি নম্বর থাকায় সেটাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলছেন, এদের নাম এই কারণেই প্যানেলে নেই। যাতে এদের নামও প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সেই জন্যই মামলা করা হয়েছে।

বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে মেধাতালিকা প্রকাশ করেন পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল। প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালে প্রথমবার প্রাথমিক নিয়োগের টেট পরীক্ষা হয়। এই নিয়োগের প্যানেল নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয় এবং জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত। শীর্ষ আদালত সেই মামলায় স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার পর বুধবার প্রকাশ হল মেধাতালিকা।
২০২২ সালে প্রাথমিকে ১২ হাজার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পর্ষদ। সেখানে শূন্যপদ ছিল ১১,৭৬৫ জনের। সেবারের নির্দেশ ছিল, যারা ডিএলএডে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তাঁরাও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হয়েছিল একটি মামলা। কিন্তু সেই মামলার শুনানিতে পর্ষদের নিয়মকেই বহাল রাখেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
প্যানেল প্রকাশের পরদিনই হাই কোর্টে মামলা দায়ের, ফের অস্তাচলে প্রাথমিকের নিয়োগ?
এরপর আবার ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে পর্ষদ। কিন্তু ২০২৩ সালের এপ্রিলে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয়। ফলে, অস্বস্তিতে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দায়ের হয় মামলা। প্রথমে এই মামলার শুনানিতেও শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ পর্ষদের প্যানেল প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এরপর ২০২৩ সালে একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই মামলার শুনানি হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, সরকার চাকরি দিতে প্রস্তুত। কিন্তু, কেবল আইনি জটিলতায় নিয়োগ বন্ধ হয়ে রয়েছে। এবার যেন সমস্ত বাধা কাটল। প্রাথমিকে চাকরি পেতে চলেছেন ৯,৫৩৩ জন। এরই মধ্যে আবার আদালতে মামলা দায়ের হওয়ায় কি প্রাথমিকের নিয়োগে নতুন সমস্যার সৃষ্টি হবে?



