মহালয়ার ঠিক আগের দিন, শুক্রবার ৯ অক্টোবর কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কিছু জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদে শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওই জেলাগুলির এক বা দু’টি জায়গায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
কলকাতাতেও আগামীকাল আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা নেই। শহরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মহালয়ার আগের দিন শহরের রাস্তায় বেরোনোর ক্ষেত্রে আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি। কলকাতার জন্য আগামীকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন পূর্বাভাসে ইঙ্গিত মিলেছে।
বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র একই মাত্রায় বৃষ্টি হবে না। তবে উপকূলের জেলা এবং গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে অল্প সময়ের জন্য ঝোড়ো হাওয়া এবং তীব্র বৃষ্টি হতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকছে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আবহাওয়া ছিল বেশ সক্রিয়। কলকাতা আলিপুরে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে বলে ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য। একই সময়ে বাঁকুড়ায় ৮.৮ মিলিমিটার, পুরুলিয়ায় ৫ মিলিমিটার এবং শ্রীনিকেতনে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টির তথ্যও মিলেছে।
শুক্রবারের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষ নজরে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই দুই জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ এবং ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। নদিয়া ও মুর্শিদাবাদেও একই ধরনের আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।
তবে এই বৃষ্টির পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহালয়ার পর অর্থাৎ ১১ অক্টোবর থেকে দক্ষিণবঙ্গে তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়া ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গে মূলত শুকনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
অর্থাৎ, আগামীকাল মহালয়ার আগের দিন কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও পুজোর আগে দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগের ইঙ্গিত আপাতত নেই। তবে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, জলাশয় বা গাছের নীচে না থাকার পরামর্শ মেনে চলাই নিরাপদ।



