রাজ্যে খুচরো মদ বিক্রির লাইসেন্স দেওয়ার নিয়মে একাধিক পরিবর্তন আনল সরকার। নতুন সংশোধিত বিধিতে ‘নতুন সাইট’ এবং ‘বিদ্যমান সাইট’-এর সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি, আগের লাইসেন্স বাতিল, প্রত্যাহার বা সমর্পণের কারণে যে জায়গায় মদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, নির্দিষ্ট শর্তে সেই জায়গাকেও নতুন লাইসেন্সের জন্য ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে বিবেচনা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি নম্বর ১৫৯২-এফটি-তে পশ্চিমবঙ্গ আবগারি (নতুন সাইট নির্বাচন এবং খুচরো মদ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রির লাইসেন্স প্রদান) বিধি, ২০০৩-এ সংশোধনের কথা জানানো হয়েছে। গেজেটে প্রকাশের দিন থেকেই সংশোধিত নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
নতুন নিয়মের ফলে আগে মদের ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত কিছু জায়গাকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফের লাইসেন্সের আওতায় আনার পথ তৈরি হয়েছে। মদ ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, এর ফলে নতুন লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা হতে পারে।
সংশোধিত বিধিতে আগে যে জায়গায় বিদেশি মদের (FL) ট্রেড লাইসেন্স ছিল, সেই জায়গার লাইসেন্সধারীর জন্য নতুন সাইটে ৪(ই) শ্রেণির খুচরো লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত এবং ৮ নম্বর বিধিতে থাকা বিধিনিষেধ মানতে হবে।
এই ধরনের আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট জেলার কালেক্টর জায়গাটি তদন্ত করবেন। প্রস্তাবিত স্থানটি সমস্ত বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত কি না, তা যাচাই করা হবে। তদন্তের পর কালেক্টর সন্তুষ্ট হলে আবেদন আবগারি কমিশনারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
কমিশনারের অনুমোদন পাওয়ার পর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র আগের জায়গায় মদের ব্যবসা ছিল বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন লাইসেন্স পাওয়া যাবে না; সংশোধিত বিধির শর্ত ও প্রশাসনিক যাচাই পেরোতে হবে।
বিদেশি মদের ‘অন’ দোকান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। ৪(এইচ) থেকে ৪(কে) শ্রেণির লাইসেন্সের আওতায় থাকা কোনও FL ‘অন’ দোকানের জায়গাকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৪(পি) শ্রেণির লাইসেন্সের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
৪(পি) শ্রেণির লাইসেন্সে সব ধরনের মদ বিক্রির সুযোগ রয়েছে। ফলে আগে থেকেই মদের ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত কোনও জায়গাকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নতুন শ্রেণির লাইসেন্সের আওতায় আনার পথ তৈরি হয়েছে।
সংশোধনের আগে জমা পড়ে থাকা আবেদনগুলিও নতুন বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে।
৪(পি) শ্রেণির নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত দু’ধরনের জায়গাকে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
প্রথমত, ৪(এইচ) থেকে ৪(কে) শ্রেণির কোনও FL ‘অন’ দোকান থেকে যদি ৪(পি) শ্রেণির লাইসেন্সে ব্যবসা চালানো হয়, সেই জায়গাকে বিদ্যমান সাইট হিসেবে ধরা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, কোনও পুরনো লাইসেন্স বাতিল, প্রত্যাহার বা সমর্পণের ফলে যে জায়গায় খুচরো মদ কিংবা অন্য কোনও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিক্রি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেই প্রাঙ্গণকেও নির্দিষ্ট নিয়মে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর ফলে মদের ব্যবসার জন্য আগে ব্যবহৃত কিন্তু বর্তমানে বন্ধ থাকা বেশ কিছু জায়গায় নতুন লাইসেন্সের আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শহর বা পুর এলাকায় নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে দূরত্বের মাপকাঠিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন লাইসেন্সের জায়গার দূরত্ব ১,০০০ ফুট বা প্রায় ৩০৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ মিটার করা হয়েছে।
তবে এই পরিবর্তন শুধুমাত্র নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইতিমধ্যে চালু থাকা মদের দোকানগুলির ক্ষেত্রে নতুন দূরত্বের নিয়ম কার্যকর হবে না।
অর্থাৎ, সংশোধিত বিধির ফলে একদিকে নতুন লাইসেন্সের জন্য আগে ব্যবহৃত কিছু জায়গাকে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে পুর এলাকায় নতুন দোকানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে দূরত্বের মাপকাঠিতেও পরিবর্তন এসেছে।
সরকারের এই সংশোধনগুলি পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বিধির আওতায় লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন কাঠামো তৈরি করল। তবে কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় লাইসেন্স মিলবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, অনুমোদন এবং বিধিনিষেধ পূরণের উপর নির্ভর করবে।



