অলিম্পিক, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, কমনওয়েলথ গেমস—বড় মঞ্চে সাফল্যের প্রায় সব শিখরই ছুঁয়েছেন মীরাবাই চানু। শুধু এশিয়ান গেমসের পদকটাই এতদিন অধরা ছিল। সেই অপেক্ষারও অবসান হল বুধবার। এআইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৪৯ কেজি ভারোত্তোলনে রুপো জিতলেন মণিপুরের এই তারকা। ১৯৮ কেজি ওজন তুলে মীরাবাই ভারতের ভারোত্তোলনকে ২৮ বছর পর এশিয়াডের পদক এনে দিলেন।
মীরাবাইয়ের মোট ১৯৮ কেজির মধ্যে স্ন্যাচে সেরা উত্তোলন ছিল ৮৭ কেজি। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তিনি তোলেন ১১১ কেজি। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেন ভারতের এই তারকা। উত্তর কোরিয়ার রি সং গাম ২১৫ কেজি তুলে সোনা জেতেন। ইন্দোনেশিয়ার লুলুক দিয়ানা ত্রি উইজায়ানা ১৯১ কেজি নিয়ে ব্রোঞ্জ পান।
স্ন্যাচ রাউন্ডে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে মীরাবাইকে। একের পর এক সফল উত্তোলনে তিনি ৮৭ কেজিতে পৌঁছন। এরপর আসল লড়াই ছিল ক্লিন অ্যান্ড জার্কে। ১০৭ কেজি সফলভাবে তোলার পর দ্বিতীয় চেষ্টায় ১১১ কেজি তোলেন তিনি। সেই উত্তোলনই তাঁকে রুপোর পদক নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
এশিয়ান গেমসে মীরাবাইয়ের পদকের অপেক্ষাটা অবশ্য দীর্ঘ। ২০১৪ সালে ইঞ্চিয়ন এশিয়াডে তাঁর অভিযান শেষ হয়েছিল নবম স্থানে। ২০১৮ সালের জাকার্তা-পালেমবাং গেমসে চোটের কারণে অংশ নিতে পারেননি। ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ৪৯ কেজি বিভাগে চতুর্থ হয়েছিলেন তিনি। অবশেষে চতুর্থ প্রচেষ্টায় এল সেই কাঙ্ক্ষিত পদক।
মীরাবাইয়ের এই রুপো ভারতের ভারোত্তোলনের জন্যও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। এশিয়ান গেমসে ভারতের শেষ ভারোত্তোলন পদক এসেছিল ১৯৯৮ সালের ব্যাংকক গেমসে। সেবার কর্ণম মালেশ্বরী ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ২৮ বছর পর মীরাবাই সেই তালিকায় নতুন করে ভারতের নাম যোগ করলেন।
তবে সোনা হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ থাকছেই। উত্তর কোরিয়ার রি সং গাম তাঁর আধিপত্য বজায় রেখে এশিয়ান গেমসে টানা তৃতীয় সোনা জিতলেন। মীরাবাইয়ের সামনে তাই শেষ পর্যন্ত রুপোই এল। কিন্তু তাঁর কেরিয়ারের অসম্পূর্ণ অধ্যায় হিসেবে যে এশিয়ান গেমস পদক এতদিন থেকে গিয়েছিল, সেটি এবার পূর্ণ হল।
এই পদকের আগে চলতি বছরও দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন মীরাবাই। জুলাইয়ে গ্লাসগোয় কমনওয়েলথ গেমসে ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ গেমস সোনা ঘরে তুলেছিলেন তিনি। অলিম্পিকে রুপো, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এবং কমনওয়েলথের একাধিক সাফল্যের পর এবার তাঁর পদকের তালিকায় যোগ হল এশিয়ান গেমসের রুপো।
৩২ বছর বয়সে এসেও মীরাবাইয়ের ধারাবাহিকতা তাই ফের সামনে এল এআইচি-নাগোয়ার মঞ্চে। সোনা না এলেও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া এই রুপো তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক হয়ে রইল। একই সঙ্গে ২৮ বছর পর এশিয়ান গেমসে ভারোত্তোলনে ভারতের পদক খরা কাটিয়ে দিলেন মণিপুরের এই তারকা।



